মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক ও মানবিক সহমর্মিতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে কুয়েতকে ২৪০ টন খাদ্য সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা।
রবিবার (২৪ মে) কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই খাদ্য সহায়তার প্রতীকী হস্তান্তর অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ জাররাহ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহর হাতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে মোট ২৪০ টন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কয়েকটি ধাপে ফ্লাইটযোগে ২৫ মে থেকে কুয়েতে পাঠানো হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় এই সহায়তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে কুয়েতের আমির শেখ মেশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহর উদ্দেশে একটি বিশেষ বার্তাও হস্তান্তর করা হয়। বার্তায় কুয়েতের জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি কামনার পাশাপাশি দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর। এছাড়া কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন বিভিন্ন সরকারি বৈঠক ও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
দুই দেশের প্রতিনিধিদের আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, খাদ্য নিরাপত্তা ও বিমান চলাচলসহ পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন খাত গুরুত্ব পায়। উভয় পক্ষই দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার বিষয়ে একমত হয়।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংকটময় সময়ে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ মানবিক সহায়তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

