কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দুনিয়ায় এখনো খুব শক্ত অবস্থান নিতে না পারলেও, ২০২৬ সালেই বড় পরিবর্তনের মুখ দেখাতে পারে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। এমনটাই বলছে একটি নতুন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন। দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিযোগীদের তুলনায় পিছিয়ে থাকা এই প্রতিষ্ঠানটি আগামী বছর থেকেই এআই খাতে নতুন করে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালে অ্যাপল প্রথমবারের মতো ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ নামে এআইভিত্তিক কিছু ফিচার ঘোষণা করে। তবে সেগুলোর বেশিরভাগই ব্যবহারকারীদের কাছে খুব একটা কার্যকর বা যুগান্তকারী মনে হয়নি। লেখালেখির টুল, ছবি তৈরির সুবিধা কিংবা ইমোজি তৈরির মতো ফিচার বাজারে এলেও, তখন গুগল, মাইক্রোসফট বা ওপেনএআই অনেক এগিয়ে গেছে।
এ ছাড়া, এআই-চালিত নতুন সিরি (ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট) আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও অ্যাপল তা এখনো বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এমনকি ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে একটি এআই নোটিফিকেশন ফিচার ফিরিয়ে নিতেও বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি। ফলে ২০২৪ ও ২০২৫ সালকে অ্যাপলের জন্য কঠিন সময় বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেতরে ভেতরে অ্যাপল বড় প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা শক্তিশালী এআই অবকাঠামো গড়ে তুলেছে, যেমন—প্রাইভেট ক্লাউড কম্পিউট (ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রেখে ডেটা প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা) এবং এআই কাজের জন্য বিশেষ চিপসেট। পাশাপাশি ওপেনএআইয়ের পাশাপাশি অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে কাজ করছে এবং গুগলের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সব প্রস্তুতি ঠিকঠাক থাকলে ২০২৬ সালের বসন্তে নতুন এআই-চালিত সিরি বাজারে আসতে পারে। সেটিই হতে পারে অ্যাপলের জন্য বড় মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত। তখন এআই প্রতিযোগিতায় নতুন করে শক্ত অবস্থান নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।

