মাত্র কয়েক বছর আগেও ফোল্ডেবল ফোনকে মনে করা হতো বিজ্ঞান কল্পকাহিনির অংশ। অথচ এখন এই প্রযুক্তি স্মার্টফোন বাজারের একটি আলাদা ও শক্তিশালী ক্যাটাগরিতে পরিণত হয়েছে। নির্মাতারা একের পর এক নতুন মডেল আনছে, ফলে আলাদা করে তালিকা বানানোর প্রয়োজন পড়ছে।
ফোল্ডেবল ফোনের জন্য ২০২৬ সাল হতে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এক বছর। গুজব সত্যি হলে স্যামসাং, অ্যাপল, গুগল ও মটোরোলার মতো পশ্চিমা বিশ্বের প্রায় সব বড় নির্মাতাই এ বছর নতুন ফোল্ডেবল ফোন বাজারে আনবে। এর মধ্যে কিছু ডিভাইস হবে আগের মডেলের আপডেট, আবার কিছু হবে সম্পূর্ণ নতুন ও আধুনিক নকশার।
চলুন দেখে নেওয়া যাক—২০২৬ সালে যেসব ফোল্ডেবল ফোন আসার কথা নিশ্চিত বা গুঞ্জন রয়েছে।
স্যামসাংয়ের একাধিক ফোল্ডেবল
চীনের বাইরে ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে স্যামসাং বেশ কয়েক বছর ধরেই শীর্ষে। ২০২৬ সালেও সেই অবস্থান ধরে রাখতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। ধারণা করা হচ্ছে, এ বছর স্যামসাং থেকে অন্তত তিনটি, এমনকি চারটি ফোল্ডেবল ফোন আসতে পারে।
সবচেয়ে আলোচিত ডিভাইসটি হলো গ্যালাক্সি জেড ট্রিফোল্ড। এটি গত বছর এশিয়ার কয়েকটি বাজারে সীমিত পরিসরে উন্মোচিত হয়েছিল। ২০২৬ সালের শুরুতে পশ্চিমা বাজারে আসার কথা রয়েছে ফোনটির। এতে থাকতে পারে ৬.৫ ইঞ্চির কভার ডিসপ্লে, স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট প্রসেসর ও ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপ। তবে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো—দুটি হিঞ্জ থাকার কারণে ভেতরের স্ক্রিন হবে আরও বড়। এটি হবে স্যামসাংয়ের প্রথম ট্রাই-ফোল্ড ডিভাইস।
এ ছাড়া নিয়মিত আপডেট হিসেবে আসতে পারে গ্যালাক্সি জেড ফ্লিপ ৮ ও গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নতুন মডেলগুলো আগের তুলনায় হালকা হবে এবং ব্যাটারির সক্ষমতাও বাড়ানো হতে পারে।
আরও একটি নতুন ডিভাইস নিয়ে কাজ করছে স্যামসাং, যাকে বলা হচ্ছে ওয়াইড ফোল্ড। এটি জেড ফোল্ড সিরিজের মতো হলেও ভেতরের স্ক্রিন হবে আরও বড়, আর বাইরের স্ক্রিন তুলনামূলক ছোট।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালে স্যামসাং থেকে চারটি ফোল্ডেবল ফোন দেখা যেতে পারে।
মটোরোলার নতুন ভাবনা
গত বছর মটোরোলা বাজারে এনেছিল তিনটি ক্ল্যামশেল ফোল্ডেবল ফোন—র্যাজার, র্যাজার প্লাস ও র্যাজার আল্ট্রা। এ বছর এসব মডেলের আপডেট আসবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ফোল্ডেবল বাজারে বড় কিছু করার পরিকল্পনা যে মটোরোলার রয়েছে, তা বোঝা যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা দিয়েছে মটোরোলা র্যাজার ফোল্ড নামের একটি নতুন ডিভাইসের। এটি হবে মটোরোলার প্রথম বুক-স্টাইল ফোল্ডেবল ফোন। এতে থাকতে পারে ৬.৬ ইঞ্চির কভার ডিসপ্লে ও ৮.১ ইঞ্চির ভেতরের স্ক্রিন। ক্যামেরা সেটআপে থাকতে পারে তিনটি ৫০ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা এবং বিভিন্ন এআই ফিচার। দাম ও বাজারে আসার সময় এখনো জানানো হয়নি।
আইফোন ফোল্ড: সবচেয়ে বড় চমক
ফোল্ডেবল ফোনের দৌড়ে এতদিন অ্যাপল ছিল অনুপস্থিত। তবে দীর্ঘদিনের গুঞ্জন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ দিকে অ্যাপল তাদের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন করতে পারে।
এই ফোনে থাকতে পারে ৫.৫ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে, যা খুললে ৭.৮ ইঞ্চির বড় স্ক্রিনে পরিণত হবে। নকশার দিক থেকে এটি দুটি আইফোন এয়ার একসঙ্গে যুক্ত করার মতো হতে পারে। ক্যামেরা সেটআপে থাকতে পারে মোট চারটি ক্যামেরা—পেছনে দুটি, ভেতরে একটি ও সামনে একটি।
অ্যাপল বরাবরের মতোই এ বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছে। তবে সব ইঙ্গিত বলছে, আইফোন ফোল্ড এবার বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
গুগল পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড
গুগল গত বছর পিক্সেল ১০ প্রো ফোল্ড দিয়ে আবার ফোল্ডেবল বাজারে সক্রিয় হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে আসতে পারে পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড।
২০২৫ সালের শুরুতেই জানা যায়, ‘ইয়গি’ কোডনেমে ডিভাইসটি উন্নয়নাধীন রয়েছে। বিস্তারিত স্পেসিফিকেশন এখনও প্রকাশ হয়নি। তবে নতুন চিপসেট ও উন্নত ক্যামেরা ব্যবস্থার সম্ভাবনা রয়েছে। গুগলের বার্ষিক পিক্সেল ইভেন্টেই এ বিষয়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।
চীনের বাজারে আরও বিকল্প
পশ্চিমা বাজারের বাইরে, বিশেষ করে চীনে ফোল্ডেবল ফোনের সংখ্যা আরও বেশি। ওপো, হনর ও হুয়াওয়ের মতো ব্র্যান্ড সেখানে নিয়মিত নতুন মডেল আনছে।
ওপো আনতে পারে ফাইন্ড এন৬ ও ফাইন্ড এন৭। এন৬ হবে বুক-স্টাইল ফোল্ডেবল, আর এন৭ হবে ওয়াইড-স্টাইল—আইফোন ফোল্ডের মতো।
হনর কাজ করছে ম্যাজিক ভি৭ নিয়ে, যেখানে উন্নত চিপসেট ও বড় ব্যাটারি থাকার কথা রয়েছে।
এদিকে হুয়াওয়ে আনতে পারে পুরা এক্স২—একটি ভিন্নধর্মী ফ্লিপ ফোন, যার ভেতরের ডিসপ্লে হবে ১৬:১০ অনুপাতের। এটি আসতে পারে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের জন্য ২০২৬ সাল হতে যাচ্ছে এক গুরুত্বপূর্ণ বছর। নতুন নকশা, বড় ডিসপ্লে, উন্নত ব্যাটারি ও এআই ফিচারের সমন্বয়ে এই ক্যাটাগরি আরও পরিণত রূপ পাবে। বছর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তালিকায় নতুন ডিভাইস যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল।
সূত্র: ম্যাশেবল

