১৬ বছরের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১৫৭তম ম্যাচে এসে প্রথমবার ৯০ রান করলেন নাসির হোসেন। জাতীয় দলের বাইরে থাকা নাসিরের এই সংস্করণে আগের সর্বোচ্চ রান ছিল ৮০। এটি ছিল ২০১৩ সালের বিপিএলে রংপুরে রাইডার্সের হয়ে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বিপক্ষে। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে নাসিরের এটি ১০ম ফিফটি।
পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা দুই দলের লড়াইয়ে বুধবার আগে ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রানের লক্ষ্য দেয় নোয়াখালী এক্সপ্রেস। তবে নাসিরের ঝড়ো ইনিংসের ওপর ভর করে ১৩৪ রানের লক্ষ্য অনায়াসেই ৭ উইকেটে জয় পায় ঢাকা ক্যাপিটালস।
আজ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে নোয়াখালীকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ঢাকা ক্যাপিটালস। কিন্তু শুরু থেকেই ছন্দহীন ছিল নোয়াখালীর ইনিংস। দলীয় ৪০ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর মোহাম্মদ নবী ও অধিনায়ক হায়দার আলি ষষ্ঠ উইকেটে ১৩৩ রানের জুটি গড়ে দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্কোর এনে দেন। নবী ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন, আর হায়দার দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন।
১৩৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পায়নি ঢাকা ক্যাপিটালসও। রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও আব্দুল্লাহ আল মামুন দুজনই দলীয় ১৪ রানের মধ্যে আউট হয়ে ফেরেন। মামুন করেন ৬ বলে ১ রান, আর গুরবাজ খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন।
তবে এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ঢাকার হাতে নিয়ে নেন নাসির। তিন নম্বরে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করেন তিনি। একের পর এক বাউন্ডারিতে রান তুলতে থাকেন নাসির। মাত্র ২১ বলে ফিফটি করে এবারের বিপিএল আসরের দ্রুততম অর্ধশতকের নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। আগের রেকর্ডটি ছিল কাইল মেয়ার্সের (২৩ বলে)।
ফিফটির পর কিছুটা ধীর হলেও থামেননি নাসির। ইরফান শুক্কুর ১১ বলে ১২ রান করে বিদায় নেন। এরপর নাসিরের সঙ্গে যোগ দেন ইমাদ ওয়াসিম। দুজনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দ্রুতই জয়ের দিকে এগোয় ঢাকা।
শেষ পর্যন্ত ৫০ বলে ৯০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন নাসির। অন্য প্রান্তে ১৬ বলে ২৯ রান করে টিকে ছিলেন ওয়াসিম। তাদের ব্যাটেই ৭ উইকেটের সহজ জয় নিশ্চিত করে ঢাকা ক্যাপিটালস।
এই জয়ে এবারের আসরে নিজেদের দ্বিতীয় জয় তুলে নিল ঢাকা ক্যাপিটালস। বিপরীতে পাঁচ ম্যাচ খেলেও এখনো জয়ের মুখ দেখেনি নোয়াখালী এক্সপ্রেস।

