সাবেক তালেবান নেতা ওসামা বিন লাদেনের বিরুদ্ধে পরিচালিত ঐতিহাসিক অ্যাবোটাবাদ অভিযানের ছায়া যেন ফিরে এসেছিল লাতিন আমেরিকায়। রুদ্ধশ্বাস ও অত্যন্ত জটিল সামরিক অপারেশনের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত সোমবার তাদের নিউইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করা হয়। এসময় মাদুরো দম্পতি মাদক পাচারসহ সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অভিযানকে সফল দাবি করেন। তিনি জানান, এটি মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতায় পরিচালিত একটি বিশাল আকারের হামলা ছিল। মাদুরোর বন্দি হওয়ার পর তার ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
অত্যন্ত গোপনীয় এই অভিযানে অংশ নেয় আমেরিকার বিশেষ বাহিনী ডেল্টা ফোর্স এবং বিশেষায়িত এভিয়েশন রেজিমেন্ট ১৬০তম সোর (SOAR)। এই অপারেশনে আকাশপথে শক্তির মহড়া দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বি-১ ল্যান্সার, এফ-২২ র্যাপ্টর এবং এফ-৩৫ লাইটনিংসহ প্রায় ১৫০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এই অভিযানে অংশ নেয়।
গোয়েন্দা তথ্যের জন্য সিআইএর বিশেষ ড্রোন দ্য বিস্ট অব কান্দাহার আকাশ থেকে নজরদারি চালায়। এছাড়া সিআইএ’র একটি বিশেষ দল গত আগস্ট মাস থেকেই মাদুরোর গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল। অভিযানে মাদুরোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিকে গোয়েন্দা সোর্স হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদুরোর নিখুঁত অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
বন্দি করার পর মাদুরোকে প্রথমে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে উভচর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ইও জিমা’র মাধ্যমে নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হয়। জেনারেল ড্যান কেইনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন ক্রু সদস্যদের বয়স ছিল ২০ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে।
তবে এই বিশাল সামরিক অভিযানে বড় ধরনের প্রাণহানিও ঘটেছে। ভেনেজুয়েলা সরকারের দাবি অনুযায়ী, অভিযানে তাদের অন্তত ২৪ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এছাড়া কিউবার সরকার জানিয়েছে, সেখানে দায়িত্বরত তাদের ৩২ জন সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তাও এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। ভেনেজুয়েলার অ্যাটর্নি জেনারেল তারেক উইলিয়াম সাব এই ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বর্ণনা করে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন এবং কিউবায় দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি

