মনে আছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের সেই এমএইচ৩৭০ বিমানটির কথা? এটি বিমান চলাচলের ইতিহাসে অন্যতম রহস্যময় ঘটনা। প্রায় ১১ বছর আগে, ২০১৪ সালের ৮ মার্চ মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে উড্ডয়নের ৪০ মিনিটের মধ্যেই বিমানটির সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমানটিতে ২৩৯ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন, কিন্তু আজও তাঁদের কোনো খোঁজ মেলেনি।
এ ঘটনার পর থেকেই বিমানটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লক জানিয়েছেন, এমএইচ৩৭০-এর সর্বশেষ অনুসন্ধান কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার এএফপিকে পাঠানো একটি ভয়েস রেকর্ডিংয়ে পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে অনুসন্ধানের উপযুক্ত সময় না থাকায় এই অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তবে বছরের শেষে পুনরায় অনুসন্ধান শুরু হবে।’
কয়েক সপ্তাহ আগে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, নতুন করে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। তবে ভারত মহাসাগরের বিশাল এলাকাজুড়ে চালানো অনুসন্ধানেও বিমানটির কোনো সন্ধান মেলেনি।
২০১৪-২০১৭ মেয়াদে অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্বে ভারত মহাসাগরের ১ লাখ ২০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে অনুসন্ধান চালানো হয়। তবে মাত্র কয়েকটি ধ্বংসাবশেষ ছাড়া বিমানটির আর কিছুই পাওয়া যায়নি।
এরপর ২০১৮ সালে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামুদ্রিক অনুসন্ধান সংস্থা ‘ওশান ইনফিনিটি’ও ব্যর্থ হয়। গত মাসে সংস্থাটি নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করেছিল।
ওশান ইনফিনিটির সাম্প্রতিক অনুসন্ধান ‘খুঁজে না পেলে অর্থ দিতে হবে না’—এই নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে। অর্থাৎ, বিমানটি খুঁজে পাওয়া গেলে কেবল মালয়েশিয়া সরকার কোম্পানিটিকে ক্ষতিপূরণ দেবে।
তবে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ আদৌ মিলবে কি না, এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লক বলেন, ‘এটি অনুসন্ধানের ওপর নির্ভর করছে। কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারবে না।’
বিভিন্ন তত্ত্ব ও যাত্রীদের স্বজনদের ক্ষোভ
এমএইচ৩৭০-এর রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনা নানা তত্ত্বের জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ অভিজ্ঞ পাইলট জাহারি আহমদ শাহের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ২০১৮ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, বিমানের গতিপথ বদলানো হয়েছিল। তবে ৪৯৫ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ ছিল না।
এদিকে নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনেরা এখনও উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায়। এই বিমানের দুই-তৃতীয়াংশ যাত্রী ছিলেন চীনা নাগরিক। বাকিরা ছিলেন মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য দেশের নাগরিক।
গত মাসে এমএইচ৩৭০ নিখোঁজের ১১তম বার্ষিকীতে চীনা যাত্রীদের স্বজনেরা বেইজিংয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা ‘আমাদের প্রিয়জনদের ফিরিয়ে দাও!’—স্লোগান দেন এবং প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ করেন। প্ল্যাকার্ডগুলোর একটিতে লেখা ছিল, ‘এই ১১ বছরের অপেক্ষা ও যন্ত্রণার শেষ কবে?’
সূত্র: এএফপি