টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরও কেন্দ্রীয়ভাব চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের গণমাধ্যমে কথা বলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।
সংবাদমাধ্যম আইপেপারের প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডের শীর্ষ ক্রিকেট বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের আসন্ন কাউন্টি খেলার সময় কোনও সাক্ষাৎকার দেওয়া এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলাও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সমস্ত কাউন্টি দলকে অ্যাশেজ দলের অংশ থাকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিকল্পনা করা সমস্ত সাক্ষাৎকার বাতিল করতে জানিয়েছে। ফলে ইংল্যান্ডের বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার জাতীয় দলে ফিরে না আসা পর্যন্ত প্রকাশ্যে কথা বলতে পারবেন না।
আগামী সপ্তাহে ১৮টি কাউন্টি দল তাদের স্বাভাবিক প্রাক-মৌসুম মিডিয়া দিবস আয়োজন করবে। এবারের আইপিএলে খেলছেন না এমন অ্যাশেজ দলের প্রায় ১১ জন খেলোয়াড় এই ইভেন্টগুলোতে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক এবং টিভি চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলবেন বলে আশা করা হয়েছিল।
কিন্তু ইসিবির সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর জুনে লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে গ্রীষ্মের প্রথম টেস্টের জন্য ইংল্যান্ড দলে যোগদানের আগে বেন স্টোকস, জো রুট, হ্যারি ব্রুক, জ্যাক ক্রাউলি, অলি পোপ, মার্ক উড এবং শোয়েব বশিরকে মিডিয়ার সামনে উপস্থিত না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই মাসের শেষের দিকে পরিকল্পিত একটি বড় সংবাদ সম্মেলনের আগে খেলোয়াড়দের মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার জন্য বোর্ডও আগ্রহী নয়। ইসিবির সিইও রিচার্ড গোল্ড এবং ইংল্যান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রব কি সংবাদ সম্মেলনে অ্যাশেজের সময় কী ভুল হয়েছিল তা নিয়ে কথা বলবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ইসিবির এক কর্মকর্তা বলেন, তারা আমাদের খেলোয়াড়, তাই তারা ইংল্যান্ডের দায়িত্ব পালনের সময় কথা বলবে।
সম্প্রতি শোয়েব বশিরের সঙ্গে পরিকল্পিত একটি সাক্ষাৎকার হঠাৎ বাতিল করা হয়েছে। তরুণ স্পিনার অ্যাশেজ সফরের সময় খেলার সুযোগ পাননি এবং পরে তার ক্যারিয়ার পুনরায় শুরু করার আশায় ডার্বিশায়ারে চলে যান।এই আদেশটিও কাউন্টি দলগুলো সাধারণত প্রাক-মৌসুম মিডিয়া ইভেন্টগুলোতে সবচেয়ে বড় তারকাদের কথা বলার অনুমতি দেয়। এই সাক্ষাৎকারগুলো ঘরোয়া মৌসুম শুরু হওয়ার আগে উত্তেজনা তৈরি করতে সহায়তা করে। কিন্তু এই বছর ইসিবি যোগাযোগের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তবে বোর্ডের কর্মকর্তারা মনে করেন, ইংল্যান্ডের অ্যাশেজে পরাজয়ের কারণ ও দলের উন্নতিতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এবার অস্ট্রেলিয়ার মাঠিতে অ্যাশেজ সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হেরে যায় ইংল্যান্ড। এরপর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। এরপর টি-টোয়েন্টিতে সেমিফাইনালে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের কাছে হেরে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড।

