হুন্দাই কারখানায় ট্রাম্প বাহিনীর অভিযান, ক্ষেপেছে দক্ষিণ কোরিয়া

0
হুন্দাই কারখানায় ট্রাম্প বাহিনীর অভিযান, ক্ষেপেছে দক্ষিণ কোরিয়া

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুন্দাইর কারখানায় অভিযান চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ৪৫০ জনকে আটক করেছে। যার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকরাও। জর্জিয়ার ব্রায়ান কাউন্টিতে অবস্থিত হুন্দাইয়ের একটি ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরির কারখানায় এই অভিযান চালানো হয়। এক বছর আগে চালু হওয়া তিন হাজার একরের এই বিশাল উৎপাদন কেন্দ্রটি ঘিরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের এই অভিযান ব্যাপক চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ কর্মসংস্থান ব্যবস্থা ও অন্যান্য গুরুতর ফেডারেল অপরাধের অভিযোগের ভিত্তিতে তারা তল্লাশি চালায়। এই অভিযানে যুক্ত ছিল ব্যুরো অফ অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের মতো সংস্থা।

দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে তাদের নাগরিকদের অধিকারের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। তারা জানিয়েছে, আটককৃতদের মধ্যে দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকরা রয়েছে এবং তাদের সঠিক সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়। সিউলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমেও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযানে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দক্ষিণ কোরীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অভিযানে কোরিয়ান বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলোর অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং কোরিয়ান নাগরিকদের অধিকার ও স্বার্থ যেন অন্যায়ভাবে ক্ষুন্ন না হয়। ঘটনার পরপরই দক্ষিণ কোরিয়া তাদের কূটনীতিকদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ব্যবস্থা এড়াতে দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলো আগামী বছরগুলোতে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জর্জিয়ার রিপাবলিকান গভর্নর ব্রায়ান কেম্প হুন্দাইয়ের এই ইলেকট্রিক গাড়ি প্রকল্পটিকে রাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে প্রচার করেছিলেন, যেখানে ১২০০ মানুষের কর্মসংস্থান হওয়ার কথা ছিল। ফেডারেল সংস্থাগুলোর এই অভিযানের কারণে কারখানার পাশেই একটি ব্যাটারি প্ল্যান্টের নির্মাণকাজও বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রচারণায় অবৈধ অভিবাসীদের, বিশেষ করে যারা অপরাধ করেছে, তাদের গণহারে বিতাড়নের অঙ্গীকার করেছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে হুন্দাই কারখানার এই অভিযানটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here