ইরানের মিত্র হুতি বিদ্রোহীরা যুদ্ধে যোগ দেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর ইয়েমেন থেকে প্রথমবারের মতো একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলে ছোঁড়া হয়েছে। এর আগে গাজা যুদ্ধের সময়ও হুতিরা ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। যদিও সেসব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রে ইসরায়েলের তেমন ক্ষতি হয়নি।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বাব-এল মান্দেব প্রণালিকে। এই প্রণালি বন্ধ করে দিলে ইসরায়েলের ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে।
ইয়েমেন যুদ্ধের সময় এতদিন তুলনামূলক সংযত অবস্থানে ছিল হুতিরা। তবে তাদের কিছু কর্মকর্তার মতে, তারা মনে করছিল ইসরায়েলের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে ইয়েমেন। সে কারণেই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বর্তমানে বাব-এল মান্দেব প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজও রয়েছে। এখনো পর্যন্ত হুতিরা এই সমুদ্রপথে কোনো অবরোধ আরোপ করেনি।
তবে পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে পরবর্তী ধাপে। বিশেষ করে যদি ইসরায়েল ইয়েমেনের হোদেইদাহ বন্দর অথবা দেশটির বেসামরিক ও জনসাধারণের অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তাহলে হুতিরা বাব-এল মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া ড্রোন বা হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের ওপর বড় সামরিক প্রভাব ফেলতে নাও পারে। তবে হুতিরা যদি বাব-এল মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়, তাহলে অতীতের মতোই ইসরায়েলের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

