হারিয়ে যাচ্ছে শিমুলের সৌন্দর্য

0
হারিয়ে যাচ্ছে শিমুলের সৌন্দর্য

ঋতুরাজ বসন্ত মানেই একসময় রক্তলাল শিমুলে মোড়া গ্রামবাংলা। শীতের বিদায়লগ্নে পাতাহীন ডালে ডালে ফুটে ওঠা শিমুল ফুল প্রকৃতিকে দিত অনন্য এক আবহ। কিন্তু সময়ের স্রোতে সেই চিরচেনা দৃশ্য আজ অনেকটাই বিরল। দিনাজপুরসহ দেশের নানা অঞ্চলে দ্রুত কমে যাচ্ছে শিমুল গাছ। অনেকের চোখে এটি এখন বিলুপ্তপ্রায়।

স্থানীয়রা জানান, বছর দশেক আগেও গ্রামের বাড়ির আনাচে-কানাচে, রাস্তার ধারে কিংবা মাঠের পাশে অহরহ দেখা মিলতো শিমুলের। বর্তমানে অযত্ন, বীজ বপনে অনীহা এবং কারণে-অকারণে গাছ কাটার প্রবণতায় কমে গেছে এর উপস্থিতি। অথচ শিমুল শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়-পরিবেশ ও অর্থনীতির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

তবে আশার আলো জ্বেলে রেখেছে দিনাজপুর থেকে বীরগঞ্জ মহাসড়কের প্রায় ২৮ কিলোমিটার এলাকা। সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন গাছের ফাঁকে ফাঁকে দাঁড়িয়ে থাকা শতাধিক শিমুল গাছে এখন লাল ফুলের সমারোহ। পাতা নেই, তবু রক্তিম রঙে সেজে থাকা এই গাছগুলো পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের দৃষ্টি কাড়ছে। ঝরে পড়া ফুলে কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে লাল গালিচা; পাখিদের কলকাকলিতে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে প্রকৃতি।

প্রকৃতিপ্রেমী মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, “শিমুল গাছ উজাড় হওয়ায় পাখিরা আবাসস্থল হারাচ্ছে। কাক, কোকিল, চিল, বক-বড় গাছের অভাবে তাদের অস্তিত্বই সংকটে পড়ছে।”

দিনাজপুরের রফিকুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক ও সবুর চৌধুরীরা জানান, একসময় শিমুলের তুলা কুড়িয়ে বিক্রি করে অনেকেই বাড়তি আয় করতেন। লেপ-তোষক, বালিশ তৈরিতে ছিল এর ব্যাপক ব্যবহার। ভেষজ চিকিৎসায় শিমুলের রস ও মূলের কদরও ছিল গ্রামাঞ্চলে।

বিরল উপজেলার উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার শাহজাহান আলী বলেন, “শিমুল ফুল প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায়, পাশাপাশি এটি ঔষধি গাছ হিসেবেও পরিচিত। কাঠ বেশি স্থায়ী না হওয়া ও ফোমের ব্যবহার বাড়ায় তুলার চাহিদা কমেছে। তবু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শিমুল রোপণ জরুরি।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here