ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাকে হত্যার নির্দেশদাতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর ছিলেন।
মঙ্গলবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল বিষয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিবি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, শরিফ ওসমান হাদি বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন অতিপরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের অতীতের কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি সভা-সমাবেশে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক ও জোরালো বক্তব্য রাখতেন। তার এসব বক্তব্যে ছাত্রলীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়।
ডিবি প্রধান আরও বলেন, হাদিকে গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ফয়সাল ও আলমগীরকে পলায়নে সহায়তা করা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর ছিলেন। ফলে আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং ভুক্তভোগীর পূর্ববর্তী রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
এর আগে, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় মোটরসাইকেলে এসে দুই যুবক শরিফ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর তাকে পরিবারের সিদ্ধান্তে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানেই সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন ছিলেন উসমান হাদি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

