ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার হরিশপুর মাঠে আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে নিরাপদ শসা চাষ করে সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শিক্ষিত যুবক কৃষি উদ্যোক্তা রাব্বি আহমেদ। তার এই উদ্যোগ ও সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকায় আরও ২০ থেকে ২৫ জন কৃষক শসা চাষ শুরু করেছেন এবং তারাও ভালো ফলন পাচ্ছেন।
রাব্বি আহমেদ হরিণাকুন্ডু উপজেলার জোড়াদাহ ইউনিয়নের হরিশপুর গ্রামের আছালদ্দি মন্ডলের ছেলে। তিনি হরিণাকুন্ডু সরকারি লালনশাহ কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন।
রাব্বি জানান, ২০২০ সাল থেকে গতানুগতিক চাষ পদ্ধতি বাদ দিয়ে ইউটিউব দেখে আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে ২৫ শতক জমিতে পরিকল্পিতভাবে শসা চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরেই ভালো ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় তার আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরবর্তী ছয় বছর ধরে একই জমিতে ধারাবাহিকভাবে শসা চাষ করে তিনি এবারও প্রায় এক লক্ষ টাকার বেশি শসা বিক্রি করেছেন। বাজারে পাইকারি দরে শসা প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম ভালো থাকলে মোট বিক্রি আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে তিনি জানান। এতে সার, কীটনাশক, পলিথিন ও শ্রমিকসহ মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা।
শসা চাষ থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে রাব্বি হরিণাকুন্ডু উপজেলার ভবনীপুর বাজারে ‘স্মার্ট কৃষি’ নামে একটি কীটনাশকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। একই সঙ্গে তিনি এলাকায় কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে কীভাবে বেশি লাভ করা যায়, সে বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া নিজ গ্রামেও তিনি সার ও কীটনাশকের আরেকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।
রাব্বি আহমেদ বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে মাটির ওপর খড়, পাতা, পলিথিন বা অন্যান্য উপাদান দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এতে মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে, আগাছা কম জন্মায়, মাটির ক্ষয় রোধ হয় এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে। ফলে ফসল দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ফলন ভালো হয়। তিনি দেশের কৃষকদের এই আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে চাষাবাদের পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কামরুজ্জামান বলেন, রাব্বির মতো শিক্ষিত যুবকরা যদি উচ্চমূল্যের ফসল চাষে এগিয়ে আসেন, তাহলে অবশ্যই সফলতা আসবে। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষে আগ্রহী কৃষকদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।

