আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সদস্য দেশগুলো তাদের জরুরি মজুত থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিলেও বিশ্বজুড়ে তেলের উচ্চমূল্য অব্যাহত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের প্রায় অবরোধসদৃশ অবস্থানের কারণে প্রতিদিন বিশ্ববাজার থেকে প্রায় দেড় কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং ৫০ লাখ ব্যারেল তেলজাত পণ্য বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এই বিশাল ঘাটতির মুখে ঘোষিত ৪০ কোটি ব্যারেলের জরুরি মজুত মাত্র ২৬ দিনের মধ্যেই নিঃশেষ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার ফলে বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব স্তিমিত হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা রবিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত বিশ্ব তেলের বাজারের ইতিহাসে এযাবৎকালের বৃহত্তম সরবরাহ সংকটের সৃষ্টি করেছে। সংস্থাটির মতে, সদস্য দেশগুলোর এই সম্মিলিত জরুরি পদক্ষেপ বাজারে একটি উল্লেখযোগ্য বাফার বা সুরক্ষাবলয় তৈরি করলেও তেলের প্রবাহ স্বাভাবিক করার জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিয়মিত জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়া অপরিহার্য। বর্তমানে এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর তেলের মজুত তাৎক্ষণিকভাবে বাজারে পাওয়া গেলেও আমেরিকা ও ইউরোপের মজুত করা তেল মার্চের শেষ নাগাদ ছাড়া হবে বলে জানা গেছে।
আইইএ আরও উল্লেখ করেছে যে, এই জরুরি তেলের মজুত বিভিন্ন উপায়ে বাজারে ছাড়া হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে সরাসরি দরপত্র আহ্বান, ঋণ চুক্তি অথবা শোধনাগারগুলোর কাছে সরাসরি বিক্রয়।
তবে সরবরাহব্যবস্থার এই চরম অনিশ্চয়তার কারণে তেলের বাজার এখনো অস্থির। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যতক্ষণ না হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো নিরাপদ হচ্ছে, ততক্ষণ কেবল জরুরি মজুতের ওপর ভর করে তেলের আকাশচুম্বী দাম কমিয়ে আনা সম্ভব হবে না।
সূত্র: সিএনএন

