বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে অনুমতি পাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়া।
পৃথক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমনটিই দাবি করা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে আগে থেকেই তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
কোরিয়া হেরাল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিউলে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত সায়েদ কোজেচি বলেছেন- দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ নিয়ে কোনও সমস্যা নেই এবং দেশটিকে ‘বিরোধীরাষ্ট্র নয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে নিরাপদ চলাচলের জন্য আগাম সমন্বয় ও ইরানের সামরিক ও সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন করতে হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, আল-জাজিরার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন- ইরান, মিসর, তুরস্ক ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর মালয়েশিয়ার জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
হরমুজে আটকে ২৬টি কোরীয় জাহাজ
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ নিউজ জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ২৬টি দক্ষিণ কোরীয় জাহাজ ও প্রায় ১৮০ জন নাবিক হরমুজ প্রণালিতে আটকে রয়েছে।
কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার
সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হাইয়োন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে কথা বলে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরান জানিয়েছে, তারা সিউলের কাছে আটকে থাকা জাহাজগুলোর বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ৫৫ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসে, যা হরমুজ প্রণালি হয়ে পরিবাহিত হয়। ২০২৪ সালে এ খাতে দেশটির ব্যয় ছিল প্রায় ১৪৪ বিলিয়ন ডলার।
‘বন্ধু’ রাষ্ট্রর জন্য ছাড়
ইরান আগে জানিয়েছে, চীন, রাশিয়া, ভারত, ইরাক, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো ‘বন্ধু’ দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা হয়েছে। এই তালিকায় এবার যোগ হতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার নাম। সূত্র: কোরিয়া হেরাল্ড, আল-জাজিরা

