হঠাৎ বৃষ্টিতে কালাইয়ে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ

0
হঠাৎ বৃষ্টিতে কালাইয়ে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ

হঠাৎ বৃষ্টিতে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার অধিকাংশ ফসলের মাঠ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে আলু উত্তোলনের শেষ সময়ে বৃষ্টির পানিতে আলু, গমসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। 

অনেক স্থানে পানি চলাচলের পথ ভরাট হয়ে যাওয়ায় উপর থেকে নেমে আসা পানিতে মাঠ ডুবে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। তবে দ্রুত পানি নেমে গেলে ফসল রক্ষা করা সম্ভব বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে উপজেলার আঁওড়া, হাতিয়র, তালোড়া বাইগুনি, কালিমহুর, ঝামুটপুর, বানিহারা সহ বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ফসলের জমি পানির নিচে তলিয়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে যেসব পথ দিয়ে পানি চলাচল করত, সেগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপর থেকে নেমে আসা পানি জমে ক্ষেত প্লাবিত হয়েছে। সকালে বৃষ্টির পর জমিতে পানি জমে যাওয়ায় কৃষকরা শ্যালোমেশিন বসিয়ে পানি সেচে সরানোর চেষ্টা করছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে আলুর দাম কম থাকার কারণে তারা আলু তুলে জমিতেই শুকানোর জন্য রেখেছিলেন। হিমাগারে পাঠানোর আগেই বৃষ্টির পানিতে আলু ডুবে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আঁওড়া গ্রামের কৃষক লাবু মিয়া বলেন, দুই বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছি। আলু তুলে জমিতেই শুকাতে দিয়েছিলাম, আজ হিমাগারে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু সকালে বৃষ্টিতে সব আলু পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এখন পানি সরালেও আলু পচে যাওয়ার ভয় আছে।

হাতিয়র গ্রামের কৃষক মাসুদ রানা বলেন, কিস্তি তুলে আলু লাগিয়েছিলাম। বাজারে দাম কম থাকায় হিমাগারে রাখার জন্য মাঠেই রেখেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে সব আলু পানিতে ডুবে গেছে। এখন কিস্তি কীভাবে দেব বুঝতে পারছি না।

একই গ্রামের আরিফুল ইসলাম বলেন, গত বছর আলুর ভালো দাম পাইনি। লোকসান পুষিয়ে নিতে আবার আবাদ করেছি। এবারও দাম কম, তাই হিমাগারে রাখার জন্য আলু মাঠেই রেখেছিলাম। কিন্তু সকালে বৃষ্টিতে সব তলিয়ে গেছে।

আঁওড়া গ্রামের বাসিন্দা মেজবাহুল ইসলাম বলেন, জন্মের পর এই মাঠে বৃষ্টির পানিতে ফসল তলিয়ে যেতে দেখিনি। রাস্তার পাশে পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আজ এই অবস্থা হয়েছে। এখন যদি বর্ষায় এমন হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন মাঠে বৃষ্টির পানিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা সত্য, তবে ক্ষতির পরিমাণ খুব বেশি নয়। দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা গেলে ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here