স্মৃতি ৩৩৫৫ ভুট্রা বীজে সর্বনাশ হয়েছে লালমনিরহাটের দেড় শতাধিক চাষির । ফলন ভালো দেখা গেলেও ভুট্রা পাকার পর অধিকাংশ ভুট্রাই চিটা হয়েছে। এতে ধারদেনা করে চাষাবাদ করা চাষিরা ভেঙ্গে পড়েছেন । তারা বলছেন,ঋণ কিভাবে পরিশোধ হবে তা ভেবে পাচ্ছি না। ভূট্টাচাষি মজিদুল, শাহিনুর, দেলোয়ার, রশিদুলসহ আরও অনেকে। স্মৃতি ৩৩৫৫ জাতের ভুট্টা বীজ কোম্পানির দেয়া আশ্বাসে তাদের স্বপ্ন আজ গুড়ে বালি হয়ে গেছে।
কৃষকের সঙ্গে প্রতারণা করার এমনই এক অভিযোগ মিলেছে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী এলাকা মুসলিমপাড়ায়।
ভুক্তভোগী মজিদুল জানান, স্থানীয় বাজারের রওশন আলী ও কোম্পানির লোকজন এসে একটি সমাবেশ করে আমাদের স্মৃতি ৩৩৫৫ ভুট্টা বীজ আবাদে উৎসাহ দেন। তারা গ্যারান্টি দিয়ে বলেন একর প্রতি ১৬০-১৮০ মন পর্যন্ত ভুট্টার ফলন হবে। কিন্তু এখন যে অবস্থা তাতে করে ৮-১০ মন হবে কি-না সন্দেহ। ভুট্টার মোচা একেবারে ছোটো। অধিকাংশ মোচাতেই চিটার পরিমান বেশি।
আর এক ভুক্তভোগী শাহিনুর বলেন, পাশের ক্ষেতের ভুট্টা দেখেন আর স্মৃতি ভুট্টা দেখেন। মোচা অর্ধেক ফলেছে ,বাকিটা চিটা। এখন আমরা কি করবো। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, তারা বলেছে এটি নিবন্ধনকৃত বীজ। কিন্তু এখন জানলাম যে না এগুলো মিথ্যা ছিল। বিশ্বাস করে আমরা স্মৃতি ভুট্টা বীজ নিয়ে আজ আমাদের সব শেষ। আমরা কৃষি অফিসার বরাবর অভিযোগ দিয়েছি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। আমাদের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে তাদের বিচার এবং ক্ষতিপূরণ চাই।
অভিযুক্ত রওশন আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কৃষকদের তিনি (স্মৃতি ৩৩৫৫ ভুট্টা বীজ) বিশ্বাস করে আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু তারা যে সমস্যায় পড়েছে এই বিষয়টি আমি কোম্পানিকে জানিয়েছি। তারা সরেজমিনে পরিদর্শনে আসতে চেয়েছে।
এবিষয়ে ওই কোম্পানির মার্কেটিং অফিসার আতাউর রহমান বলেন, আমাদের বীজে অন্যান্য এলাকায় এরকম হয়নি। তাছাড়া এবারে এরকম একটু হয়েছে। আর সব কোম্পানি বলে ১৬০-১৮০ মন ভুট্টা হবে। ব্যবসার জন্য বলতে হয়। এসময় তিনি তাদের কোম্পানির বীজ নিবন্ধন আছে বলেও অবগত করেন।
তিনি দাবি করছেন স্মৃতি ভুট্টা বীজ নিবন্ধিত। কিন্তু পাটগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমামের তথ্য বলছে এটি নিবন্ধিত নয়। মোস্তফা হাসান বলেন, আমরা জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিস থেকে জেনেছি এটি নিবন্ধিত বীজ নয়। যার কারণে কৃষক প্রতারিত হয়েছে। একটি অভিযোগ পেয়েছি এবং সেটির তদন্ত প্রতিবেদন পেলে কৃষি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এ উপজেলায় অন্তত ১৪৭ জন কৃষক এমন প্রতারিত হয়ে পথে বসেছে।

