স্বাদে-মানে অনন্য পাহাড়ের তরমুজ

0
স্বাদে-মানে অনন্য পাহাড়ের তরমুজ

পাহাড়ে বাম্পার ফলন হয়েছে তরমুজের। যেমন টসটসে, ঠিক তেমনি গাঢ় লাল ও মিষ্টি। দেখতেও বেশ আকর্ষণীয়। পাহাড়ে উৎপাদিত এসব তরমুজের চাহিদাও বেশি। দামও বেশি বলছেন ক্রেতারা। তাই হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে। দূর পাহাড়ের উৎপাদিত তরমুজের সয়লাব হয়েছে পাহাড়ে। কিন্তু জ্বালানি  তেলের সংকটের কারণে ভোগান্তি বেড়েছে পরিবহনে। কোনো রকম স্থানীয় বাজারে চাহিদা মিটিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে ঢাকা ও চট্টগ্রামে। অন্যদিকে জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, উপযুক্ত আবহাওয়া এবং উন্নত চাষাবাদের কারণে রাঙামাটির কয়েকটি উপজেলায় গেল বছরের তুলনায় ঈর্ষণীয় ফলন হয়েছে। তাই লাভের টাকা গুনছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিদিন রাঙামাটির বনরূপা বাজারের সমতাঘাটে বসেছে হরেক রকমের তরমুজের হাট। শুধু সাপ্তাহিক হাটে নয়, সব সময় জমজমাট রাঙামাটির তরমুজের হাট। শুধু তাই নয়, রাঙামাটির শহরের প্রধান সড়কে সড়কেও বসানো হয়েছে ভাসমান তরমুজের হাট। তাই ক্রেতা ও বিক্রেতার লাভ হচ্ছে সমানে সমান।

জানা গেছে, রাঙামাটি জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে ছয়টিতেই বরকল, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, নানিয়ারচর, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় এবার তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রায় প্রতিদিন নৌপথে দূর পাহাড় থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে এসব তরমুজ। সমতাঘাটে আসার পর বসে তরমুজের পাইকারি হাট। দূর-দূরান্ত থেকে আগত পাইকারি ক্রেতারা বিভিন্ন পরিবহনে করে এসব তরমুজ নিয়ে যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও আশপাশের জেলাগুলোতে।

চট্টগ্রাম থেকে আগত পাইকারি ব্যবসায়ী মো. রহিম বলেন, রাঙামাটির তরমুজের চাহিদা বেশি চট্টগ্রামে। তাই প্রতিবছর রাঙামাটি থেকে তরমুজ সংগ্রহ করি। এবারও রাঙামাটির বালুখালী ইউনিয়ন থেকে পাইকারি দরে ২ হাজার তরমুজ নিয়ে আসছি প্রায় ৩ লাখ টাকায়। এরই মধ্যে বিনিয়োগের অংশ উঠে গেছে। লাভের অংশও উঠবে আশা করি। কারণ চাহিদা অনেক। তবে জ¦ালানি তেলের সংকটের কারণে তরমুজ বাজারে আনতে পারছেন না পাহাড়ের চাষিরা। পাহাড়ের তরমুজ আনা হলে আরও কম দামে পাইকারি ক্রয় করা সম্ভব হতো।

একই কথা জানান আরেক তরমুজ ব্যবসায়ী শ্যামল বিকাশ চাকমা। তিনি বলেন, দাম দিয়ে পাইকারি বাজার থেকে তরমুজ কিনে এনেছি। তাই খুচরা বাজারেও দাম একটু বেশি। কারণ কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর কমে যাওয়ায় নৌপথে তরমুজ শহরে আনতে অনেক টাকা খরচ হয়। অন্যদিকে জ¦ালানি তেলের সংকটে সব সময় ইঞ্জিনচালিত বোট পাওয়া যায় না। তাই পরিবহন খরচ তরমুজের চেয়ে বেশি।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারে বড় ও মাঝারি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ২০০ টাকা। আর ছোট আকারের তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১০০ টাকায়। স্থানীয় ক্রেতা সুজনা চাকমা অভিযোগ করে বলেন, বিক্রেতাদের সিন্ডিকেটের কারণে রাঙামাটিতে তরমুজের দাম বেশি। স্থানীয় চাহিদা না মিটিয়ে এসব তরমুজ বাজারজাত করা হচ্ছে বিভিন্ন জেলায়। তাই আমাদের বেশি দামে তরমুজ কিনতে হচ্ছে। রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামান জানান, চলতি বছর রাঙামাটি জেলায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। আর প্রতি হেক্টর জমিতে ৫০ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।  যা গেল বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। এছাড়া উপযুক্ত আবহাওয়া এবং উন্নত  চাষাবাদের কারণে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারাও মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সহায়তা করে যাচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here