মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার একটি ভয়াবহ পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দ্বারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মোহাম্মদ বাকের সাদ দাউদ আল-সাদি নামের এক ৩২ বছর বয়সী ইরাকি নাগরিক এই হত্যা ষড়যন্ত্রের মূল পরিকল্পনাকারী বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত আইআরজিসি প্রধান কাসেম সোলাইমানির মৃত্যুর ‘প্রতিশোধ’ হিসেবেই ৪৪ বছর বয়সী ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার ছক কষেছিল আল-সাদি। সোলাইমানিকে নিজের গুরু এবং পিতৃসম মনে করতেন এই ইরাকি যুবক। তৎকালীন সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প সোলাইমানির মৃত্যুকে বড় সাফল্য হিসেবে উদযাপন করেছিলেন। আর সেই ক্ষোভ থেকেই ‘ট্রাম্প যেভাবে আমাদের ঘর পুড়িয়েছে, সেভাবে আমরা ট্রাম্পের ঘর পুড়িয়ে দেব’— এমন প্রতিজ্ঞা নিয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের জীবননাশের পরিকল্পনা শুরু করেন আল-সাদি।
ইরাক ও ইরানের উগ্রপন্থী ও সন্ত্রাসী চক্রের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এই ব্যক্তিত্ব ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও তার স্বামী জ্যারেড কুশনারের ফ্লোরিডার ইন্ডিয়ান ক্রিক আইল্যান্ডের ২৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিলাসবহুল বাড়ির একটি নীলনকশা বা ম্যাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করেছিলেন। আরবি ভাষায় লেখা সেই পোস্টে আল-সাদি মার্কিন প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছিলেন, এই ছবিটির দিকে তাকান এবং জেনে রাখুন যেকোনো রাজপ্রাসাদ বা সিক্রেট সার্ভিস আপনাদের রক্ষা করতে পারবে না। আমরা এখন পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের পর্যায়ে আছি। আমাদের প্রতিশোধ নেওয়াটা কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
গত ১৫ মে তুরস্ক থেকে আল-সাদিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১৮টি হামলা ও হামলার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, আল-সাদির প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল ইহুদি নাগরিক ও স্থাপনাগুলো। ইভাঙ্কা ট্রাম্প ২০০৯ সালে জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বিয়ের আগে ইহুদি ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন, যা তাকে আল-সাদির অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। এ ছাড়া আল-সাদি টরন্টোতে মার্কিন দূতাবাসে গুলিবর্ষণ, আমস্টারডামে ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক মেলনে বোমা হামলা এবং লন্ডনে দুই ইহুদি নাগরিককে ছুরিকাঘাতের ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে আল-সাদিকে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন ডিটেনশন সেন্টারে কঠোর নিরাপত্তায় নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। এই একই কারাগারে আমেরিকার আলোচিত ইউনাইটেড হেলথ কেয়ারের সিইও ব্রায়ান থম্পসন হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত লুইগি মাঙ্গিওনে এবং ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোও বন্দি রয়েছেন।
এই হাই-প্রোফাইল গ্রেপ্তারের বিষয়ে মন্তব্য জানতে নিউ ইয়র্ক পোস্টের পক্ষ থেকে আল-সাদির আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে দ্য টেলিগ্রাফ এই বিষয়ে হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন বিচার বিভাগের আনুষ্ঠানিক মন্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

