ধান, বরই, পেয়ারা ও ড্রাগন ফল চাষে সাফল্যের পর এবার সূর্যমুখী চাষে নতুন স্বপ্ন দেখছেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার কৃষক জাকির হোসেন। তেলবীজ এই ফসল চাষ করে লাভের আশায় বেশ আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তিনি।
জাকির হোসেন সিংড়া উপজেলার চামারী ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা। চলতি মৌসুমে সরকারি কৃষিপ্রণোদনার সহায়তায় বাড়ির পাশের প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন তিনি। প্রতি বিঘা জমিতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। খরচ বাদে প্রতি বিঘায় প্রায় ১০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির পাশের জমিতে সারি সারি গাছে ফুটে আছে সূর্যমুখী ফুল। সূর্যের দিকে মুখ করে থাকা হলুদ ফুলে পুরো জমি যেন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করেছে। পথচারীরাও থেমে এক নজর দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন।
কৃষক জাকির হোসেন জানান, সূর্যমুখীর চাষ পদ্ধতি অনেকটা সরিষার মতো হলেও খরচ তুলনামূলক কম। এই ফসলের মেয়াদ ৯০ থেকে ১০৫ দিন। তিনি বলেন, দেড় বিঘা জমিতে তার প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রতি বিঘায় প্রায় ৫ মণ ফলনের আশা করছেন। সে হিসাবে দেড় বিঘা জমিতে ৭ মণের বেশি ফলন হতে পারে। বর্তমানে বাজারে সূর্যমুখীর বীজের দাম প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা মণ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খরচ বাদে দেড় বিঘা জমি থেকে ১০ হাজার টাকার বেশি লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।
তিনি বলেন, সূর্যমুখী কাটার পর একই জমিতে ধানসহ আরও দুটি ফসল চাষ করা সম্ভব। ভালো ফলন পেলে আগামী বছর চাষের পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খন্দকার ফরিদ বলেন, ভোজ্য তেলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সরিষার পাশাপাশি সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ ও কৃষিপ্রণোদনার মাধ্যমে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ উপজেলায় সূর্যমুখী চাষ আরও বিস্তৃত হবে।

