চলমান টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এর সুপার এইট পর্বের কাঠামো নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। দ্বিতীয় পর্বে ওঠা আট দলের নাম চূড়ান্ত হওয়ার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘প্রি-সিডিং’ পদ্ধতি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই আইসিসি নির্দিষ্ট স্লট—এ১, বি১, সি১ ও ডি১—নির্ধারণ করে দেয়, যেখানে শীর্ষ দলগুলোকে বসানো হয়। এর ফলেই সুপার এইটের দুই গ্রুপে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গ্রুপ–১ এ জায়গা পেয়েছে চারটি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন—ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল, জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল ও দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দল। অন্যদিকে গ্রুপ–২ এ রয়েছে চারটি রানার্সআপ দল—পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল, শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দল, ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল ও নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল।
এমন বিন্যাসে প্রথম পর্বে সেরা পারফর্ম করা চার দলের মধ্যে অন্তত দুটি দল সেমিফাইনালে ওঠার আগেই বাদ পড়বে। বিপরীতে নিজেদের গ্রুপে দ্বিতীয় হওয়া কোনো দল তুলনামূলক সহজ পথ পেতে পারে শেষ চারে ওঠার জন্য। সাধারণত ক্রীড়া টুর্নামেন্টে গ্রুপ চ্যাম্পিয়নদের কিছু বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়। কিন্তু এই কাঠামোয় শীর্ষে থাকার বিশেষ প্রণোদনা নেই বলে মত অনেকের।
উদাহরণ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রসঙ্গ টানা হচ্ছে। নিজেদের গ্রুপে শীর্ষে থেকেও তারা তুলনামূলক কঠিন গ্রুপে পড়েছে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড, যারা নিজেদের গ্রুপে দ্বিতীয়, আগে থেকেই তুলনামূলক সুবিধাজনক সিড পেয়েছিল। এতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলোর গুরুত্বও কমে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, এতে টুর্নামেন্টের শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা কমে যেতে পারে।
সমালোচকেরা আরও বলছেন, সহ–আয়োজক শ্রীলঙ্কাও সূচির কারণে বঞ্চিত হতে পারে। পুরো টুর্নামেন্টে ঘরের মাঠে খেলার সুযোগ থাকলেও সেমিফাইনালে উঠলে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তাদের ভারতে খেলতে যেতে হবে। ফলে কলম্বোয় ঘরের দর্শকদের সামনে খেলার সুযোগ হারাতে পারে তারা।
তবে আইসিসি এই কাঠামোর পক্ষে যুক্তি দিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজনের কারণে আগেভাগেই ভেন্যু ও সূচি নির্ধারণ করা জরুরি ছিল। সে কারণেই প্রি-সিডিং পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে।

