বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কার মধ্যে কক্সবাজারের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন, সম্ভাব্য আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) এবং দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজারের রামুতে বিজিবির সেক্টর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজিবি জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত সড়কের শূন্য লাইনের কাছাকাছি ছায়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন কয়েকজন ব্যক্তি বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ব্যাগ ফেলে পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে ৫টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন, ৫টি সম্ভাব্য আইইডি, একটি মেটাল ডিটেক্টর ও সোলার প্যানেলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা বিস্ফোরকগুলো বালুর বস্তা দিয়ে সুরক্ষিত করে লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
বিজিবির কর্মকর্তারা জানান, বোমা নিষ্ক্রিয় করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষ দল মোতায়েনের প্রক্রিয়া চলছে। দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উদ্ধার করা বিস্ফোরকগুলো অপসারণ ও নিষ্ক্রিয় করা হবে।
এদিকে একই দিনে নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশফাঁড়ি সীমান্ত এলাকায় আরেকটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত রাসায়নিকের মধ্যে মেপোক্স, দাহ্য পাউডার ও তরল পদার্থ রয়েছে। এগুলো পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হচ্ছে।
বিজিবি জানায়, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে ড্রোনসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা বলেন, সীমান্ত ব্যবহার করে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে উখিয়ার বালুখালী সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবক আহত হয়েছেন। সীমান্তবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার জন্য স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

