ভারতে এক ‘সিরিয়াল কিলার’কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির নাম সিং রাজ। তিনি রাজধানী নয়াদিল্লির ফরিদাবাদে ছয়টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে তিনজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক তরুণীকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে ৫৪ বছর বয়সী ওই ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত খুনি’–কে বুধবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ফরিদাবাদের অতিরিক্ত দায়রা জজ পুরুষোত্তম কুমার। পাশাপাশি তাকে ২ লাখ ১০ হাজার রুপি জরিমানা করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ফরিদাবাদের ভুপানি গ্রামের এক নারী তার ২০ বছর বয়সী ভাতিজির নিখোঁজের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেন। ওই ঘটনায় ২০২২ সালের জানুয়ারিতে থানায় একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়।
মামলার তদন্ত চলাকালে ৬ জানুয়ারি ওই তরুণীর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। এর একদিন পর ফরিদাবাদের জাসানা গ্রামের বাসিন্দা সিং রাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় রাজ ওই তরুণীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। হত্যার পর তার মরদেহ নদীর তীরে ফেলে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
জিজ্ঞাসাবাদে রাজ আরও পাঁচজনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন, যার মধ্যে তিনজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
পুলিশ জানায়, ভুপানি গ্রামের ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা মামলায় ২০২২ সালের ৩০ মার্চ রাজের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
ফরিদাবাদ পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, “এ মামলায় ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন…উভয়পক্ষের শুনানি শেষে অতিরিক্ত দায়রা জজ পুরুষোত্তম কুমারের আদালত মঙ্গলবার রাজ সিংকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তার বিরুদ্ধে আদালতে আরও মামলা বিচারাধীন রয়েছে।”
রাজ ফরিদাবাদ ১৬ নম্বর সেক্টরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতেন। অন্য একটি মামলার তদন্তের সময় তিনি পুলিশের নজরে আসেন।
রাজের হাতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত জানিয়ে পুলিশ বলেছে, ২০১৯ সালে একজন চা বিক্রেতার মেয়েকে যৌন হয়রানির পর তিনি তাকে হত্যা করেন।
এক বছর পর ২০২০ সালের আগস্ট মাসে হাসপাতালে যৌন হয়রানির চেষ্টাকালে বাধা দিলে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে হত্যা করেন রাজ। পরের বছর ২০২১ সালের জুনে হাসপাতালের একজন কিশোরী পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে হত্যা করেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, রাজ তার চাচা ও চাচাতো ভাইকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি

