দীর্ঘ যুদ্ধ ও ধ্বংসের পর ঘুরে দাঁড়াতে সিরিয়াকে বড় ধরনের সহায়তা দিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন দার লিয়েন জানিয়েছেন, চলতি বছর এবং আগামী বছরে সিরিয়াকে প্রায় ৬২০ মিলিয়ন ইউরো, অর্থাৎ প্রায় ৭২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এই অর্থ ব্যবহার করা হবে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং মানবিক সহায়তায়।
শুক্রবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক সফরকালে ভন দার লিয়েন বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে বহু বছর ধরে চলা ধ্বংসযজ্ঞের কারণে সিরিয়ার পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন খুবই বড়। তিনি নিজ চোখে সেই ক্ষয়ক্ষতি দেখেছেন বলেও জানান।
ইইউ শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে সাজাতেও আগ্রহী। ভন দার লিয়েন বলেন, সিরিয়ার সঙ্গে আগের সহযোগিতা চুক্তি পুনরুজ্জীবনের (আবার কার্যকর করার) বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে চায় ইইউ। পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে একটি নতুন রাজনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করা হবে।
উল্লেখ্য, সিরিয়ায় দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর বিদ্রোহীদের হাতে গত বছর দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন। এর পরই ইউরোপীয় ইউনিয়ন সিরিয়ার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছে ইইউ। ভন দার লিয়েন বলেন, উত্তর সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে সরকারপন্থী বাহিনী ও কুর্দি যোদ্ধাদের মধ্যে সম্প্রতি যে সহিংসতা বেড়েছে, তা উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব পক্ষের মধ্যে অবিলম্বে সংলাপ প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইইউর এই সহায়তা সিরিয়ার মানবিক সংকট লাঘব এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশটিকে ঘুরে দাঁড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

