সিরাজগঞ্জে বিএনপি কর্মী হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামিসহ তিনজন আটক

0
সিরাজগঞ্জে বিএনপি কর্মী হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামিসহ তিনজন আটক

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় সরকারি খাস পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে সংঘর্ষে বিএনপির দুই কর্মী নিহতের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (২ মার্চ) রাত থেকে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। চিকিৎসা শেষে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে, সোমবার সকালে উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই বিএনপি কর্মী নিহত হন।

আটকরা হলেন- গোয়ালপাড়া গ্রামের নজর আলীর ছেলে আছমত আলী (৪২), একই এলাকার রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে আশরাফ আলী (৪৪) এবং আব্দুর রহিমের ছেলে তরিকুল ইসলাম (৪২)। তারা বর্তমানে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান জানান, সংঘর্ষের পর উভয় পক্ষের আহতদের সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আবুবক্কার সিদ্দিক গ্রুপের দুইজন মারা যাওয়ার পর আছমত আলী গ্রুপের আছমত আলীসহ তিনজন পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। নিহতদের পরিবার মামলা দায়ের করলে তাদের গ্রেফতার দেখানো হবে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া জানান, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। নিহতদের মরদেহ সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি আরও জানান, আবুবক্কার সিদ্দিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। তার মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং একটি পা ভেঙে গেছে। আটককৃতরাও সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে ৫ বিঘা আয়তনের একটি সরকারি খাস পুকুরের দখল নিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আছমত আলী ও ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুবক্কার সিদ্দিকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আছমত আলী স্থানীয় মসজিদের নামে পুকুরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর বিএনপি নেতা আবুবক্কার সিদ্দিক পুকুরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন।

সোমবার সকালে আবুবক্কার সিদ্দিক লোকজন নিয়ে পুকুরে জাল ফেলতে গেলে আছমত আলী গ্রুপ বাধা দেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ধারালো অস্ত্র, হাঁসুয়া, দা ও লাঠিসোঁটার আঘাতে আছমত আলী পক্ষের ৪ জন এবং আবুবক্কার সিদ্দিক পক্ষের সাতজন গুরুতর আহত হন।

আহতদের মধ্যে সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুবক্কার সিদ্দিকের বড় ভাই আব্দুস সালাম (৬০) এবং একই পক্ষের মনছের আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৭০) বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান।

উল্লেখ্য, এই পুকুরের দখলকে কেন্দ্র করে ২০০৭ সালেও ফজলার রহমান নামে আরও একজন নিহত হয়েছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here