অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রেটার নোয়াখালী ফেস্টিভ্যাল ২০২৬। রবিবার (৫ এপ্রিল) দিনব্যাপী আয়োজিত এ উৎসবটি প্রবাসী নোয়াখালীবাসীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
প্রায় এক হাজারের বেশি দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে সৃষ্টি হয় ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে। স্বাগত বক্তব্য দেন সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী মেসবাহ উদ্দিন খান। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ও গবেষক রাশেদ শ্রাবণ। তিনি নোয়াখালীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। দ্বিতীয় পর্ব উপস্থাপনা করেন আহসানুল শামল, যিনি প্রাণবন্ত পরিবেশনায় দর্শকদের সম্পৃক্ত রাখেন।
দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—গান, নৃত্য এবং নোয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী নানা উপস্থাপনা। পাশাপাশি দর্শকদের জন্য ছিল সমৃদ্ধ খাবারের আয়োজন, যেখানে পরিবেশন করা হয় পোলাও, গরুর মাংস, রোস্ট, ছানা ডাল, পায়েস ও চা। শিশু ও পরিবারের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয় ফেস পেইন্টিং ও স্যান্ডউইচ।
অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে স্পন্সর ও দাতাদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। কাউন্সিলর আশিক রহমান এবং এলিজা রহমান এ সম্মাননা তুলে দেন।
এ আয়োজন সফল করতে নিরলস পরিশ্রম করেন সওপন, শামীম, বাবু, তোফাজ্জল, মামুন, মোতালেব ও রবিন বৌমিকসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানে নোয়াখালীর ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশের গৌরবময় অবদান তুলে ধরা হয়। বিশেষভাবে স্মরণ করা হয় বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন-সহ নোয়াখালীর কৃতী সন্তানদের।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে তাদের শেকড় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উচ্ছ্বাসই প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও নোয়াখালীর সংস্কৃতি আজও সমানভাবে জীবন্ত ও শক্তিশালী।

