মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার কাশেদ আলী হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে দণ্ডপ্রাপ্তদের অনুপস্থিতিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সিংগাইর উপজেলার কানাইনগর গ্রামের জয়নালের মেয়ে সাহেদা আক্তার এবং তার ছেলে মো. লিয়াকত আলী। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি আজমতকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর সন্ধ্যায় কাশেদ আলী নিখোঁজ হন। তাঁর মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় পরদিন তাঁর স্ত্রী সিংগাইর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুলিশ মোবাইলের কললিস্ট সংগ্রহ করে সন্দেহের ভিত্তিতে সাহেদা, লিয়াকত ও আজমতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সাহেদা কৌশলে কাশেদকে ডেকে নেয়। পরে সহযোগীদের নিয়ে রাত ১২টার দিকে কাশেদের গলা, কাঁধ ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ পাটের বস্তায় ভরে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে একটি শিমক্ষেতে মাটিচাপা দেওয়া হয়। ৩ নভেম্বর পুলিশ ওই স্থান থেকে লাশ উদ্ধার করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন সিংগাইর থানার এসআই রুহুল আমিন। গ্রেফতার হওয়ার পর সাহেদা ও লিয়াকত আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ২০১৫ সালের ২২ জুলাই তিনজনকে আসামি করে মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে জামিনে বের হয়ে দুই আসামি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ এফ এম নূরতাজ আলম বাহার বলেন, দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সাহেদা ও লিয়াকতকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দণ্ডবিধির ২০১/৩৪ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর আসামি আজমতের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়।

