বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় আরও একটি মাইলফলক অতিক্রম করলো বিজিএমইএ। বৈশ্বিক মানদণ্ড বজায় রেখে সংস্থাটি তাদের দ্বিতীয় ‘সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট ২০২৩’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে। ২০২০ সালে প্রকাশিত প্রথম সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টের ধারাবাহিকতায় এই দ্বিতীয় সংস্করণটি বাংলাদেশের পোশাকখাতের টেকসই উন্নয়নের দলিল।
আজ মঙ্গলবার উত্তরাস্থ বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন বিজিএমইএ-র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ-র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সালাম, পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল এবং বিজিএমইএ এর স্ট্যান্ডিং কমিটি অন সাসটেইনেবল এনার্জি এর চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান (শাপু)।
প্রথম রিপোর্টের সাফল্যের পথ ধরে এই দ্বিতীয় প্রতিবেদনটিও বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত ‘গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ ফ্রেমওয়ার্ক অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। এটি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের প্রকৃত অবস্থান এবং রূপান্তরের চিত্র তুলে ধরেছে।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, “২০২০ সালে প্রথম রিপোর্ট প্রকাশের মাধ্যমে আমরা যে স্বচ্ছতার যাত্রা শুরু করেছিলাম, এই দ্বিতীয় রিপোর্টটি সেই প্রতিশ্রুতিকেই আরও সুসংহত করেছে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প কেবল পোশাক সেলাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি বিশাল সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কারিগর। এই রিপোর্টটি আমাদের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য এবং টেকসই ব্যবসায়িক চর্চার এক দালিলিক প্রমাণ, যা ভবিষ্যতে একটি রেজিলিয়েন্ট ও দায়িত্বশীল শিল্প গড়ে তোলার পথে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
বিজিএমইএ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, বিজিএমইএ এর এই উদ্যোগ শিল্পের প্রকৃত অর্জনগুলোকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে সাহায্য করবে। যারা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, সেই সকল সদস্য কারখানার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
উল্লেখ্য, প্রকাশনাটি সফল করতে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছে জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড। কারিগরি উৎকর্ষ নিশ্চিত করতে যুক্ত ছিলো সাসনেক্স লিমিটেড। বিজিএমইএ এর রেসপনসিবল বিজনেস হাব (আরবিএইচ) থেকে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে।
বিজিএমইএ বিশ্বাস করে, এই ধারাবাহিক রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে পোশাক শিল্প সম্পর্কে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা ভেঙে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ আরও নির্ভরযোগ্য, স্বচ্ছ এবং শক্তিশালী অবস্থানে উন্নীত হবে।

