চোখ লাল হয়ে থাকা, শুষ্ক অনুভূত হওয়া বা সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ ফুলে থাকা—এ ধরনের সমস্যা এখন অনেকেরই নিত্যদিনের সঙ্গী। সাধারণত কম ঘুম, অতিরিক্ত মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার কিংবা শারীরিক ক্লান্তিকেই এর কারণ হিসেবে ধরা হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সব সময় এই উপসর্গগুলোকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে চোখের এসব পরিবর্তন শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যারও ইঙ্গিত হতে পারে।
চোখ লাল দেখানোর প্রধান কারণ হলো চোখের উপরিভাগে থাকা সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলোর প্রসারণ। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, ধুলাবালি, ধোঁয়া, অ্যালার্জি কিংবা ঘুমের অভাবে এমনটা হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিছুক্ষণ চোখ বিশ্রাম দিলে লালভাব কমে যায়।
তবে যদি চোখ লাল হওয়ার সঙ্গে ব্যথা, ঝাপসা দেখা, অতিরিক্ত পানি পড়া বা পিচুটি বের হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে তা সংক্রমণ কিংবা গুরুতর চোখের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এমন অবস্থায় দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
বর্তমানে আরেকটি সাধারণ সমস্যা হলো শুষ্ক চোখ বা ‘ড্রাই আই’। চোখ পর্যাপ্ত অশ্রু তৈরি না করতে পারলে বা অশ্রু দ্রুত শুকিয়ে গেলে এই সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় মোবাইল, ল্যাপটপ বা ট্যাব ব্যবহারের সময় আমরা স্বাভাবিকের তুলনায় কম পলক ফেলি, যা শুষ্ক চোখের ঝুঁকি বাড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে চোখে জ্বালাপোড়া, খচখচে ভাব বা ঝাপসা দেখার সমস্যা থাকলে তা ড্রাই আই সিনড্রোমের লক্ষণ হতে পারে।
চোখ ফুলে যাওয়া বা পাফি আইসও অনেকের মধ্যে দেখা যায়। কম ঘুম, অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার খাওয়া কিংবা অ্যালার্জির কারণে চোখের চারপাশে তরল জমে এই ফোলাভাব তৈরি হয়। সাধারণত এটি সাময়িক হলেও, দীর্ঘদিন ফোলাভাব থাকলে বা এর সঙ্গে ব্যথা ও দৃষ্টিজনিত সমস্যা যুক্ত হলে তা থাইরয়েড, কিডনি বা অন্য শারীরিক জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, চোখের সাময়িক সমস্যায় পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিয়মিত পলক ফেলার অভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং স্ক্রিন ব্যবহারের মাঝে বিরতি নেওয়া জরুরি। তবে উপসর্গ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তীব্র আকার ধারণ করে বা নতুন সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
সূত্র: টিভি৯ বাংলা

