সামাজিক মাধ্যমে সহিংসতা বন্ধে ইসির উদ্যোগ দেখা যায়নি : দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

0
সামাজিক মাধ্যমে সহিংসতা বন্ধে ইসির উদ্যোগ দেখা যায়নি : দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে নতুন উপাদান হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিত্তিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার। এর মাধ্যমে সহিংসতা, ঘৃণা ছড়ানো হয়; তা বন্ধ করার মতো কোনো উদ্যোগ বা ইচ্ছা নির্বাচন কমিশন দেখাতে পারেনি। এর অপব্যবহার বন্ধ করার জন্য এই সরকার কিছু করতে পারছে না।

মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য মুক্ত আলোচনা’ শীর্ষক ধারাবাহিক আয়োজনের অংশ হিসেবে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘ডিজিটাল অর্থনীতি ও উদ্যোক্তা প্রসঙ্গ’ বিষয়ক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ডিজিটালাইজেশন আমাদের সমাজকে অনেক ক্ষেত্রে প্রগতিশীল করেছে, তবে একই সঙ্গে এটি নতুন ধরনের বৈষম্যও সৃষ্টি করেছে। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে একদিকে কর্মসংস্থান তৈরি হলেও, অন্যদিকে প্রথাগত কর্মসংস্থানে চাপ তৈরি হচ্ছে। আগস্ট মাসের আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ থেকেই বোঝা যায়, বর্তমান বাস্তবতায় ইন্টারনেট কতটা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত ছিল একটি নৈতিক পরাজয়ের প্রতিফলন।

তিনি বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহারের ফলে কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতি কমেছে, তবে এটি টেকসই করতে হলে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। এজন্য একটি একীভূত জাতীয় তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে হবে, যা নির্বাচন কমিশন বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে না থেকে একটি স্বায়ত্তশাসিত, নজরদারিভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে নতুন সাইবার সিকিউরিটি অর্ডিন্যান্সকে আগামী সরকারকে বৈধতা দিতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলো আগামী নির্বাচনে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে জনগণের স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here