ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রথমবারের মতো আবাদ হয়েছে উচ্চফলনশীল উন্নত জাতের বারি সরিষা–২০। ভোজ্যতেল উৎপাদন বৃদ্ধি ও আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত এই জাতটি কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বারি সরিষা–২০ একটি স্বল্পমেয়াদি জাত। এর জীবনকাল ৮৫ থেকে ৯০ দিন। আমন ধান কাটার পর পতিত জমিতে এ জাতের সরিষা চাষ করা যায়, ফলে জমির ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ২ থেকে ২ দশমিক ২ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। বীজে তেলের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বাজারেও এর চাহিদা ভালো।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, রোগবালাই সহনশীলতা ও জলবায়ু উপযোগিতাও এই জাতের বড় বৈশিষ্ট্য। লিফ ব্লাইটসহ সাধারণ রোগের বিরুদ্ধে এটি সহনশীল এবং কম সেচেও ভালো ফলন দেয়। ফলে খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এটি একটি সম্ভাবনাময় জাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের কৃষক সুমি আক্তার বলেন, আমি বারি সরিষা–২০ জাতের সরিষার প্রদর্শনী আবাদ করেছি। মাঠের অবস্থা দেখে এলাকার সবাই বীজ সংরক্ষণে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বিঘাপ্রতি প্রায় সাত মণ ফলন পাওয়ার আশা করছি।
বিটঘর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রিপন বলেন, এই জাতের পরিচর্যা তুলনামূলক কম লাগে। গাছ শক্ত হয় এবং শুঁটির সংখ্যা বেশি থাকে। এতে উৎপাদন খরচ কমে আসে, লাভের পরিমাণ বাড়ে। আগামী মৌসুমে এর আবাদ আরও বাড়বে।
নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, কৃষকদের নতুন জাতের সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে সম্প্রসারণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বারি সরিষা–২০ অন্য জাতের তুলনায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি ফলন দেয়। এ মৌসুমে প্রথমবার ১০ বিঘা জমিতে আবাদ হয়েছে। আগামী মৌসুমে নবীনগরে ৫০০ বিঘা জমিতে এই জাত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বীজ সংরক্ষণ করা হবে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম জানান, সদর উপজেলায় নতুন জাত হিসেবে বারি সরিষা–২০ প্রায় ২০ কানি জমিতে আবাদ করা হয়েছে। ছোট বাকাইল গ্রামের কৃষক এরশাদৌলা ছয় বিঘা জমিতে পার্টনার প্রোগ্রামের আওতায় প্রদর্শনী আবাদ করেছেন। কাছাইট গ্রামের হারুন মিয়া ক্লাস্টার পদ্ধতিতে ছয় বিঘা জমিতে এই জাতের প্রদর্শনী স্থাপন করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন বলেন, জেলার সদর, নবীনগর, কসবা ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় প্রথমবারের মতো ৫০ বিঘা জমিতে বারি সরিষা–২০ আবাদ হয়েছে। মাঠ পরিদর্শনে দেখা গেছে, শুঁটির সংখ্যা অত্যন্ত ভালো। রোগবালাই মুক্ত রেখে সঠিক সার ব্যবস্থাপনা ও হালকা সেচ নিশ্চিত করা গেলে এই জাত সরিষা উৎপাদনে বিপ্লব ঘটাতে পারে। এর আবাদ বাড়লে দেশে ভোজ্যতেল আমদানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

