বিএনপি সরকার দলান্ধদের বিভিন্ন পদে বসিয়ে তাদের খুশি করার ব্যবস্থা নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম।
তিনি বলেন, দেশের ১১ সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ গণতান্ত্রিক রীতির পরিপন্থী। একই সঙ্গে তিনি সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়ে প্রশ্ন তুলে এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারকে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য জাহিদুর রহমান।
আবদুল হালিম আরও বলেন, যিনি গত নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য ক্যাম্পিং করেছেন, পোস্টার করেছেন, দলীয় নেতাদের সঙ্গে মিটিং করেছেন, তাকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর করা হয়েছে। এটার অর্থ হচ্ছে দলীয় লোকদের, দলান্ধদের আজকে পোস্টিং দিয়ে খুশি করার জন্য সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে, যেটা নিন্দনীয়।
তিনি বলেন, সরকার স্থানীয় নির্বাচনের দিকে না গিয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি ছয়টি সিটিতে এবং ১৪ মার্চ পাঁচটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। এই প্রশাসকেরা হলেন বিএনপিদলীয় নেতা-কর্মী, যারা জাতীয় নির্বাচনে হেরেছেন। সরকার সিটি করপোরেশনে রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে জনগণের মতামত এবং জুলাইয়ের চেতনাকে অবজ্ঞা করেছে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, সরকার ৪২টি জেলায় তাদের দলীয় লোক নিয়োগ দিয়েছে এবং দলীয় লোক যদি বিশিষ্ট নাগরিক হতেন, সেটা ভিন্নভাবে চিন্তা করার ছিল। কিন্তু দেখা যায়, যারা বিপুল ভোটে হেরেছেন…যেমন গাইবান্ধা-৩-এ বিএনপির জেলা সভাপতি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর কাছে বিপুল ভোটে হেরেছেন। তাকে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।
এসময় সাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান পরিবর্তনের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন আবদুল হালিম। তিনি বলেন, ‘তাদের কোন ধরনের যোগ্যতার ঘাটতি আছে, এমনটা যদি তারা আমাদের বোঝাতে পারতেন, তাহলে আমরা মেনে নিতাম। কিন্তু আমরা মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকার অনেকগুলো যাচাই-বাছাই করে যোগ্য লোকদেরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নতুন নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবদুল হালিম বলেন, অতীতে ব্যাংক পরিচালনায় দক্ষদের বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করা হয়েছিল। তবে এবার একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নজিরবিহীন।
আমরা বিরোধী দল হিসেবে জনগণের যে অগ্রাধিকার, সেটা তুলে ধরব। এর মাধ্যমে বিরোধী দলের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার যদি ভূমিকা রাখতে পারে, ভালো। না হলে আন্দোলন মাঠেও চলবে, সংসদও উত্তপ্ত হবে, বলেও ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন জামায়াতে ইসলামীর এই সহকারী সেক্রেটারি।

