সারা দেশে নদ-নদীর পানি বাড়ছে বৃষ্টিপাতের কারণে। সতর্কসীমা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের তিস্তার পানিও। রবিবার (২৪ মে) এ তথ্য জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের উজানের আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা অঞ্চলেও ভারী বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের আসাম ও মেঘালয় অঞ্চলে আগামী তিন দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। রংপুর বিভাগের তিস্তা নদী ডালিয়া পয়েন্টে সতর্কসীমা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানির সমতল আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
এদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী তিন দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। পরবর্তী দুই দিন নদ-নদীগুলোর পানির সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানির সমতলও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রবণতা আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে নদীগুলো বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী তিন দিন নদীগুলোর পানির সমতল আরও বাড়তে পারে। তবে সেগুলোও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। নেত্রকোনা জেলার ভুলাই-কংস নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী দুই দিন এ নদীগুলোর পানির সমতল বাড়তে পারে এবং তৃতীয় দিনে স্থিতিশীল থাকতে পারে।
কিশোরগঞ্জ জেলার ধনু-বাউলাই নদীর পানির সমতল বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী তিন দিনও এ নদীগুলোর পানির সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে। এ ছাড়া মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু ও খোয়াই নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী এক দিন এ নদীগুলোর পানির সমতল আরও বাড়তে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।
অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকার ফেনী, হালদা, কর্ণফুলী, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী তিন দিন এসব নদীর পানির সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং প্রবাহিত হতে পারে বিপদসীমার নিচ দিয়ে।

