ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে একাধিক ফুটওভার ব্রিজ জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারীরা। ব্রিজের লোহার পাত ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় অনেকের পা আটকে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। ব্রিজ ব্যবহার করতে অনেকে অনীহা দেখানোয় মহাসড়ক দিয়ে সরাসরি পারাপার বাড়ছে, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সড়ক বিভাগের সূত্র জানায়, দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ কিলোমিটার। এই অংশে মোট ২৫টি ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ব্রিজ এক যুগেরও বেশি আগে নির্মিত। ২৫টির মধ্যে চারটি ব্রিজ বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এগুলো হলো—সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি বিশ্বরোড ও সুয়াগাজী বাজার, চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া বাজার এবং দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ বাজার এলাকার ফুটওভার ব্রিজ।
এ ছাড়া চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড এলাকার ফুটওভার ব্রিজে পথচারীর চাপ বেশি থাকায় সেখানে অতিরিক্ত সিঁড়ি স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কোটবাড়ি বিশ্বরোড ফুটওভার ব্রিজে সারাক্ষণই মানুষের ভিড় থাকে। ব্রিজের পশ্চিম পাশের সিঁড়িতে কোনো এক পরিবহনের ধাক্কায় কাঠামো বেঁকে গেছে। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্রিজের বিভিন্ন স্থানে মরিচা পড়েছে, কোথাও কোথাও লোহার পাত ছিদ্র হয়ে গেছে। এসব ছিদ্র দিয়ে নিচে মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহন স্পষ্ট দেখা যায়। কিছু স্থানে ছিদ্র এত বড় যে পথচারীর পা ঢুকে পড়ছে।
দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ বাজার এলাকার ফুটওভার ব্রিজেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে অনেক পথচারী ব্রিজ ব্যবহার না করে নিচ দিয়ে লোহার গ্রিলের ফাঁক গলে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন।
ইলিয়টগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মতিন সৈকত ও সাধন সাহা এবং সদর দক্ষিণ এলাকার এম. ফিরোজ মিয়া বলেন, নিয়মিত সংস্কার না করায় ব্রিজগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেকেই ব্রিজে উঠতে চান না, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। দ্রুত সংস্কার জরুরি।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে কয়েকটি ফুটওভার ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে—বিষয়টি আমাদের জানা আছে। পর্যায়ক্রমে মেরামতের কাজ চলছে। বাকি ব্রিজগুলোর সংস্কারও দ্রুত করা হবে।

