বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে সুপার ওভারে জয় পেয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান করে রাজশাহী। জবাবে ৬ উইকেটে ১৫৯ রান করে রংপুর। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সুপার ওভারে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ২ উইকেটে ৬ রান করে রংপুর রাইডার্স। জবাবে ৩ বলে ১০ রান করে জয় তুলে নেয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। এ জয়ে ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে শীর্ষস্থান ধরে রাখলেন নাজমুল হোসেন শান্তরা।
বৃহস্পতিবার প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপদেই পড়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। দ্বিতীয় ওভারে দলীয় ১২ রানে সাজঘরে ফেরেন তানজিদ হাসান (৬ বলে ২ রান)। রংপুর রাইডার্সের বোলার অ্যালিস ইসলাম উদ্বোধনী জুটি ভেঙ্গে দিলেও বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দেয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ঝোড়ো ইনিংস খেলেন দলের পাকিস্তানি ব্যাটার সাহিবজাদা ফারহান ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজন মিলে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে করেন ৯৩ রান। সাহিবজাদা ৪৬ বলে ৬৫ রান করেন। ৮টি চার ছাড়াও ২টি ছক্কার মার ছিল তার ইনিংসে। অ্যালিস ইসলামই শিকার করেন সাহিবজাদার উইকেট। দলীয় সংগ্রহ তখন ১৪.২ ওভারে ৩ উইকেটে ১১৮ রান। রানের পাহাড় গড়ার সুযোগ ছিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের সামনে।
তবে রংপুর রাইডার্সের বোলারদের দাপটে ১৫৯ রানেই থেমে যান শান্তরা। অধিনায়ক শান্ত ৩০ বলে ৪১ রান করেন ৫টি চার ও ১টি ছক্কার মারে। এরপর আর কেউই উল্লেখ করার মতো রান করতে পারেননি। মোহাম্মদ নওয়াজ করেন ১১ বলে ১০ রান। বাকিরা দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছার আগেই সাজঘরে ফেরেন। রংপুর রাইডার্সের পক্ষে দারুণ বোলিং করেন অ্যালিস ইসলাম। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে ২টি উইকেট শিকার করেন। এ ছাড়া ফাহিম আশরাফ ৪ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। মুস্তাফিজুর রহমান ৪ ওভার বোলিং করে ৩৪ রান দিয়ে শিকার করেন ১টি উইকেট। কাইল মায়ার্সও দারুণ বোলিং করেন। তিনি ২ ওভারে মাত্র ১১ রান দেন। কোনো উইকেট শিকার না করলেও রান আটকে তিনি রংপুরের ব্যাটারদের কাজ সহজ করে দেন।
জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ধীরগতিতেই শুরু করে রংপুর রাইডার্স। লিটন দাস ১১ বলে ১৬ রান করে তানজিম হাসান সাকিবের বলে মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। রংপুরের রান তখন ৩.১ ওভারে ২২। সামনে তখনো অনেক পথ বাকি। উইকেটে ডেভিড মালানের সঙ্গে যোগ হন তাওহিদ হৃদয়। দুজন ৭২ বলে ১০০ রানের জুটি গড়েন। তাওহিদ হৃদয় ৩৯ বলে ৫৩ রান (৭টি চার) করে সাজঘরে ফেরেন। মেহরবের বলে তানজিদকে ক্যাচ দেন হৃদয়। অনেকটা দৌড়ে বাউন্ডারি লাইনের কাছ থেকে ক্যাচটা নেন তানজিদ। এরপর কাইল মায়ার্স এসে ৮ বলে ৯ রান করেন ১ ছক্কার মারে। তিনিও মেহরবের বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। তবে রংপুর রাইডার্সকে জয়ের পথে নিয়ে যান ডেভিড মালান। তিনি ৫০ বলে ৬৩ রান করেন। ৬টি চার ছাড়াও ২টি ছক্কার মার ছিল তার ইনিংসে। আগের ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষেও হাফ সেঞ্চুরি (৪৮ বলে ৫১ রান) করেন মালান।
বিপিএলের চলমান আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে রংপুর রাইডার্স ৭ উইকেটে পরাজিত করে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে। চট্টগ্রামের করা ১০২ রান ৩০ বল হাতে রেখেই ছাড়িয়ে যান নুরুল হাসান সোহানরা। অন্যদিকে রাজশাহী গতকাল নিজেদের চতুর্থ ম্যাচ খেলেছে। আগের তিন ম্যাচ খেলতে নেমে দুটি জয় ও একটি পরাজয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। প্রথম ম্যাচে রাজশাহী সিলেট টাইটান্সকে পরাজিত করে। এরপর ঢাকা ক্যাপিটালসের কাছে হেরে যায় তারা। তবে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে হারিয়ে শীর্ষস্থানও দখল করেছিল দলটি।

