মার্কিন আগ্রাসনের আশঙ্কায় গ্রিনল্যান্ডবাসীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির স্থানীয় সরকার। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলের প্রধান নেতা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সাথে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
দ্বীপটির রাজধানী নুকে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রিনল্যান্ড একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের পরিকল্পনা করছে। এই ফোর্স নাগরিকদের সম্ভাব্য যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত করবে। তিনি আরও জানান, সামরিক সংঘাত খুব একটা সম্ভাব্য না হলেও এর ঝুঁকি থেকেই যায়।
একই সুরে কথা বলেছেন গ্রিনল্যান্ডের অর্থমন্ত্রী মুতে বুরুপ এগেদে। তিনি দ্বীপটির বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত চাপযুক্ত হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে তাদের প্রস্তুতি দরকার। এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ৫৭ হাজার বাসিন্দার জন্য নতুন নির্দেশিকা তৈরি করা হচ্ছে। যেখানে অন্তত পাঁচ দিনের খাবার মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় নিরাপত্তা এবং চীন ও রাশিয়ার প্রভাব মোকাবিলার দোহাই দিয়ে গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ডেনমার্কের কাছ থেকে এই দ্বীপটি কেনার প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিষয়টি প্রয়োজনে কঠোরভাবে সমাধান করা হতে পারে।
এমনকি যেসব ইউরোপীয় দেশ এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে তাদের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আর্কটিক এনডুরেন্স মহড়ার অংশ হিসেবে সোমবার গ্রিনল্যান্ডে অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে ডেনমার্ক। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতারা স্পষ্ট করেছেন, তারা রাশিয়ার আগ্রাসনের কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি দেখছেন না এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কাজ করতে আগ্রহী। ড্যানিশ প্রতিরক্ষা কমিটির প্রধান রাসমুস জারলভ জানিয়েছেন, খনি প্রকল্প বা সামরিক ঘাঁটির বিষয়ে আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও নাগরিকদের সার্বভৌমত্ব এবং নাগরিকত্ব বিকিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সূত্র: টিআরটি

