শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঘরে সর্দি–কাশির ভোগান্তি। আর সর্দির সবচেয়ে অস্বস্তিকর উপসর্গগুলোর একটি হলো বন্ধ নাক। নাক বন্ধ থাকলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, মাথা ভারী লাগে, ঘুমেও ব্যাঘাত ঘটে। মূলত নাসিকা পথে রক্তনালির প্রদাহ ও শ্লেষ্মা জমে যাওয়ার কারণেই এই সমস্যা দেখা দেয়।
তবে সব সময় ওষুধের দ্বারস্থ না হয়ে কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়েই মিলতে পারে দ্রুত আরাম। হাতের কাছেই থাকা উপকরণ দিয়ে বন্ধ নাক খোলার পাঁচটি কার্যকর উপায় জেনে নিন।
১. গরম পানির ভাপ
বন্ধ নাক খোলার সবচেয়ে পরিচিত ও কার্যকর উপায় হলো স্টিম নেওয়া।
যেভাবে করবেন: একটি পাত্রে পানি ফুটিয়ে নিন। মাথায় তোয়ালে ঢেকে সেই পানির গরম ভাপ নাক দিয়ে টানুন। চাইলে পানিতে কয়েক ফোঁটা ইউক্যালিপটাস তেল বা ভিক্স মেশাতে পারেন। এতে নাসিকার ভেতরের শ্লেষ্মা পাতলা হয়ে সহজে বেরিয়ে আসে।
২. নাক ও কপালে গরম সেঁক
গরম সেঁক নাসিকার ভেতরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
যেভাবে করবেন: পরিষ্কার কাপড় গরম পানিতে ভিজিয়ে নিংড়ে নিন। এরপর সেই কাপড় নাক ও কপালের ওপর কয়েক মিনিট রেখে দিন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং নাক ধীরে ধীরে খুলে যায়।
৩. আদা চা
আদার রয়েছে অ্যান্টি–ইনফ্ল্যামেটরি গুণ, যা সর্দির উপসর্গ কমাতে সহায়ক।
যেভাবে করবেন: এক কাপ পানিতে আদা ফুটিয়ে তাতে সামান্য মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। গরম চায়ের ভাপ ও আদার গুণ একসঙ্গে কাজ করে নাক বন্ধের অস্বস্তি কমায়।
৪. রসুন ও জোয়ান
রসুন প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে পরিচিত, যা সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর।
যেভাবে করবেন: ২–৩ কোয়া রসুন থেঁতো করে পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি পান করতে পারেন। চাইলে রসুন ও জোয়ান শুকনো খোলায় হালকা ভেজে কাপড়ে পুটলি করে নাকের কাছে নিয়ে ঘ্রাণ নিতে পারেন।
৫. পর্যাপ্ত পানি পান
শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে শ্লেষ্মা ঘন হয়ে যায়, ফলে নাক আরও বেশি বন্ধ হয়।
যেভাবে করবেন: সারাদিন কুসুম গরম পানি পান করুন। এতে শ্লেষ্মা তরল থাকে এবং সহজে বেরিয়ে আসে। রাতে ঘুমানোর সময় মাথা সামান্য উঁচুতে রাখলে নাক বন্ধ হওয়ার সমস্যা কমে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি
ঘরোয়া উপায়েও যদি ১০ দিনের বেশি নাক বন্ধ থাকে, সঙ্গে জ্বর, মাথাব্যথা বা হলুদ–সবুজ কফ বের হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সর্দি–কাশিকে অবহেলা না করে সময়মতো যত্ন নিলে সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। শীত উপভোগ করুন, সুস্থ থাকুন।

