শীতে কমছে গবাদিপশুর খাদ্য গ্রহণের ক্ষমতা, বাড়ছে রোগবালাই

0
শীতে কমছে গবাদিপশুর খাদ্য গ্রহণের ক্ষমতা, বাড়ছে রোগবালাই

রংপুরসহ সারা দেশে টানা শীতের দাপট অব্যাহত রয়েছে। কোথাও মৃদু, কোথাও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমের হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। হাড় কাঁপানো এই শীতে মানুষের পাশাপাশি রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক গবাদিপশুও চরম সংকটে পড়েছে।

প্রচণ্ড ঠান্ডায় গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগির মধ্যে জ্বর, সর্দি, খাদ্যে অরুচিসহ নানা শীতজনিত রোগ দেখা দিচ্ছে। শীতের কারণে গবাদিপশুর খাদ্য গ্রহণের ক্ষমতা কমে যাওয়ায় দুগ্ধ উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা করছেন খামারিরা। একই সঙ্গে পোল্ট্রি খাতে ডিম উৎপাদন কমে বাজারে আবারও ডিমের সংকট তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানুয়ারি মাসের শুরুতে এ অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রথম মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও তার প্রভাব এখনও কাটেনি। ফলে গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন প্রাণীর শরীরে প্রয়োজনীয় উত্তাপের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক খামারিতে গবাদিপশুর শরীর মানুষের মতোই গরম কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখছেন। তবুও অধিকাংশ গরু পর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণ করতে না পারায় তাদের স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার খামারি জালাল উদ্দিন জানান, শীতের কারণে গরুর খাদ্য গ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। গবাদিপশুকে সুস্থ রাখতে বাড়তি খাবার ও পরিচর্যার জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্র জানায়, শীতকালে গামবোরো রোগে ব্রয়লার, কক, সোনালি ও লেয়ার মুরগির মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া গরু ও মহিষে গলাফুলা রোগের আশঙ্কা থাকে, যা বিভিন্ন এলাকায় গলাফুলা, ব্যাংগা, গলগটু বা গলবেরা নামে পরিচিত। শীতে গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়ার মধ্যে ক্ষুরারোগ, বাদলা, ফ্যাসিওলিয়াসিস ও তড়কাসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে।

রংপুর প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি জেলায় গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ গবাদিপশু রয়েছে। সে হিসেবে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগিসহ মোট প্রাণীর সংখ্যা ৬ কোটিরও বেশি। চলমান শীতে এসব প্রাণীর প্রজনন ক্ষমতাও কমে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রংপুর পোল্ট্রি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরমানুর রহমান লিংকন বলেন, শীতের কারণে পোল্ট্রি শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। দিনের বেলাতেও মুরগিকে উষ্ণ রাখতে অতিরিক্ত উত্তাপ দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন প্রয়োগ বাড়ানো হয়েছে, এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে।

রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. আব্দুল হাই সরকার জানান, শীতের প্রভাব থেকে গবাদিপশু রক্ষায় খামারি ও গৃহস্থদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, রবিবার ভোর ৬টায় রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দুপুর ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ধরনের আবহাওয়া আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here