শহীদের খেজুর রস খেতে দূরদূরান্ত থেকে আসেন রসপ্রেমীরা

0
শহীদের খেজুর রস খেতে দূরদূরান্ত থেকে আসেন রসপ্রেমীরা

শীতের সকালে এক গ্লাস খেজুরের রস শুধু একটি পানীয় নয়—এ যেন গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, শ্রম আর প্রকৃতির এক অনবদ্য উপহার। আর এই স্বাদ ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে গাছি শহীদের মতো মানুষরাই হয়ে উঠছেন নীরব সংগ্রামী।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদী এলাকায় খেজুর রসের জন্য এখন মানুষের মুখে মুখে একটাই নাম—গাছি শহীদ। তার বাগানের খেজুর রসের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দূরদূরান্তে। সকাল কিংবা গভীর রাত নামলেই রসের আশায় শহীদের বাগানে ভিড় জমান রসপ্রেমীরা। তবে বিপুল চাহিদার তুলনায় রসের জোগান কম থাকায় অনেকেই খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।

কনকনে শীত উপেক্ষা করে ভোরের আলো ফোটার আগেই কিংবা গভীর রাতেও রসের সন্ধানে ছুটে আসেন মানুষ। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ইট-পাথরের শহরে এই প্রাকৃতিক পানীয় এখন প্রায় বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। তবুও সেই হারিয়ে যেতে বসা স্বাদ ফিরিয়ে আনতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন গাছি মো. শহিদ মোল্লা।

৪৬ বছর বয়সী শহিদ মোল্লা ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মরহুম বজলুর রহমান মোল্লার ছেলে। গত ১২ বছর ধরে তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে খেজুর বাগান কিনে মৌসুমি ব্যবসা করে আসছেন। চলতি মৌসুমে সোনারগাঁয়ের হামছাদী এলাকায় রাকিব নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে যৌথভাবে ১০ শতাংশ জমির একটি খেজুর বাগান ৫০ হাজার টাকায় মৌসুমি চুক্তিতে ক্রয় করেন।

বাগানটিতে মোট ২৭টি খেজুর গাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৬৫ লিটার খেজুর রস সংগ্রহ করা হচ্ছে। লিটারপ্রতি রস বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে রস সংগ্রহ শুরু হয়ে ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

শহিদ মোল্লা বলেন, ‘ভোর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রস নামাই। অনেক মানুষ দূরদূরান্ত থেকে রস নিতে আসে। বাগান কম থাকায় সবার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই তিন মাসই আমাদের পুরো বছরের ভরসা। চলতি মৌসুমে প্রায় দুই লাখ টাকার রস বিক্রি করেছি, মৌসুম শেষ হতে আরও অন্তত এক লাখ টাকার রস বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।’

এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাইদ তারেক জানান, বর্তমানে প্রণোদনা কিছুটা কম থাকায় কৃষকদের বড় পরিসরে সহযোগিতা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে খেজুর রস উৎপাদনকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here