ঐতিহ্যবাহী কাঁসা-পিতল শিল্পের জন্য শরীয়তপুর জেলা একসময় সারা দেশে প্রসিদ্ধ ছিল। প্লাস্টিকের পণ্য, কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি ও পৃষ্টপোষকতার অভাবে জেলার এই শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। বাঁচার তাগিদে বিভিন্ন পেশায় চলে যাচ্ছেন এ শিল্পের কারিগররা।
সরকারি উদ্যোগ ও উপযুক্ত পৃষ্টপোষকতার অভাবে নানান সমস্যায় জেলার ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি দিন দিন বিলুপ্তির পথে ধাবিত হচ্ছে। দুই যুগ পূর্বেও এ জেলায় ছোট বড় হাজারেরও অধিক কাঁসা-পিতল শিল্পের কারখানায় রাত-দিন ব্যস্ত সময় কাটাতেন প্রায় ১৫ হাজার কারিগর। এ শিল্পের তৈরিকৃত কাঁসার থালা, বাটি, গ্লাস, পিতলের কলস, বদনা, মগ, জগ, পান্দানী, ফুলদানী, পুতুলসহ বিভিন্ন শো-পিস এবং খেলনা সামগ্রী দেশের চাহিদা মিটিয়ে ভারত, পকিস্তান ও নেপালে বিক্রি হতো। বর্তমানে জেলায় মাত্র ৬-৭টি কারখানা রয়েছে। যাতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র অর্ধশতাধিক কারিগর। যাদের এ পেশায় কাজ করে সংসার চালাতে নিয়মিত বেগ পেতে হচ্ছে।
শরীয়তপুর জেলার বিলাসখান, বাঘিয়া ,পালং, দাসার্ত্তা, কাশাভোগ, রাজনগর গ্রাম এলাকা রাত-দিন হাতুড়ি পেটানো শব্দে থাকত মুখরিত। এখন আর সেই হাতুড়ির শব্দ শোনা যায় না। ১৫ বছর আগে থেকে পর্যায়ক্রমে এ শিল্পের হিন্দু সম্প্রদায়ের কংসবণিকরা ভারতে চলে যেতে থাকেন। বর্তমানে হিন্দু সম্প্রদায়ের কংসবণিকরা ও হাতেগোনা কয়েকটি মুসলিম পরিবার ধরে রেখেছে এ শিল্পের ঐতিহ্য। বর্তমানে প্লাস্টিক পণ্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দিন দিন হারাতে বসছে কাঁসা-পিতলের শিল্প। প্লাস্টিক স্বাস্থ্যসম্মত নয়। তবে কাঁসা-পিতলের পণ্য স্বাস্থ্যসম্মত।
অতীতে স্বচ্ছলভাবে দিন কাটালেও কাজ কম থাকায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এ শিল্পের কারিগররা।
কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় শিল্পের তৈরি সামগ্রী চলে যাচ্ছে গরীব ও নিম্ম আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। চোরাই পথে কাঁচামাল বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ ও দেশের কাঁসা-পিতল শিল্প।
স্থানীয় বাজারে এ শিল্পের তৈরি সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকায়। বর্তমানে প্লাস্টিক, মেলামাইন, অ্যালুমিনিয়াম, সিরামিক ও কাঁচের তৈরি সামগ্রীর মূল্য কম থাকায় দিন দিন কমে যাচ্ছে কাঁসা-পিতল সামগ্রীর কদর। ৫ বছর আগেও জেলায় বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও হিন্দু- মুসলিমদের ঘরে ঘরে শোভা পেত কাঁসা-পিতলের তৈরি শো-পিসসহ বিভিন্ন সামগ্রী।
কাঁচামালের পাচার রোধ করে সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পটি ফিরে পেতে পারে তার হারানো ঐতিহ্য এবং বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে দেশ অর্জন করতে পারতে পারে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা।
শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইলোরা ইসমিন বলেন, শরীয়তপুর সদর উজেলায় বেশ কয়েকটি কাঁসা-পিতলের কারখানা রয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করব। তবে আমাদের কাছে এ বিষয়ে কেউ আসেনি। যদি তারা আসে তাহলে তাদের সহজ শর্তে ব্যাংক লোনের ব্যবস্থা করে দিতে পারব।

