শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধের আহ্বান পরিবেশ উপদেষ্টার

0
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধের আহ্বান পরিবেশ উপদেষ্টার

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধ করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, কারণে-অকারণে হর্ন বাজানো আমাদের বহুদিনের চরম বদ অভ্যাস। এটা পরিবর্তনের জন্য যেমন আইন লাগে, তেমনি মানুষেরও অভ্যাস পরিবর্তন করতে হয়।

শনিবার পরিবেশ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর আওতায় শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে আয়োজিত শোভাযাত্রায় উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমাদের ‘শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫’-এর গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে আইনগতভাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের পাশাপাশি পুলিশকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ, তারাই সারাক্ষণ রাস্তায় থাকে; তারা যেন শব্দ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে। ইতোমধ্যে ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকাকে নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এইসব এলাকায় মনিটরিং বাড়াতে হবে।

উপদেষ্টা বলেন, শব্দ দূষণের দু’টি উৎসকে বেশি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে-হর্ন বাজানো আর আতশবাজি ফুটানো। সুনির্দিষ্ট কোনো স্থানে যাতে শুধু নববর্ষের আতশবাজি ফোটানো হয়, দায়িত্ব ছেড়ে যাওয়ার আগে সেটার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবেন বলেও জানান।

আগামী নির্বাচিত সরকার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে গৃহীত নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন উপদেষ্টা।

তিনি মানুষের এ অভ্যাস পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে বিষয়টিকে ব্যাপকভাবে প্রচারে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। 

উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ-আপনারা স্বপ্রণোদিত হয়ে, নিজেদের দায়িত্বের জায়গা থেকে মানুষকে হর্ন না বাজানোর বার্তা প্রচার করুন। 

উপস্থিত তরুণ কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে যদি বধির হওয়া থেকে বাঁচাতে হয়, শব্দদূষণের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে; তবেই পরিবর্তন আসবে।

‘আর নয় শব্দ দূষণ, জয় হোক সুস্থ জীবন’ স্লোগানকে সামনে রেখে উপদেষ্টা বর্ণিল শোভাযাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। শোভাযাত্রাটি সকালে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ (সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা) থেকে শুরু হয়ে ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি হয়ে আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে এসে শেষ হয়।

আয়োজনে আরো বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সারোয়ার। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তাগণ।

পরিবেশ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের আয়োজনে গত ৫ জানুয়ারি থেকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ঢাকার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ১০ দিন মোবাইল কোর্ট ও ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়েছে, যা আজকের মোটর শোভাযাত্রার মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে। এই ক্যাম্পেইন পরিচালনায় সহযোগিতা করেছেন গ্রীন ভয়েস-এর তরুণ স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীবৃন্দ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here