লিবিয়ার উপকূলে ৫৫ অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা ডুবে দুই শিশুসহ ৫৩ জন নিহত অথবা নিখোঁজ হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার(আইওএম)।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সংস্থার (আইওএম) মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত ৬ ফেব্রুয়ারি লিবিয়ার জুওয়ারা শহরের উত্তরে নৌকাটি উল্টে যায়।
এরপর কর্তৃপক্ষের সহায়তায় দুই নাইজেরিয়ান নারীকে উদ্ধার করা হয়। একজন বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি তার স্বামীকে হারানোর কথা জানিয়েছেন। অন্যজন জানিয়েছেন, তিনি এই ট্র্যাজেডিতে তার দুই শিশুকে হারিয়েছেন। আইওএম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার হওয়া দুইজনকে জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছে।
বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের বিবরণ অনুসারে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে আফ্রিকান অভিবাসী এবং শরণার্থীদের বহনকারী নৌকাটি লিবিয়ার আল-জাওইয়া থেকে রওনা হয়েছিল। প্রায় ছয় ঘণ্টা পরে নৌকাটি ডুবে যায়। এদিকে মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুটে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে আইওএম।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুসারে, চলতি বচরের জানুয়ারিতেই মধ্য ভূমধ্যসাগরে তীব্র আবহাওয়ার মধ্যে একাধিক জাহাজডুবির ঘটনায় কমপক্ষে ৩৭৫ জন অভিবাসীর মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অনেকের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আইওএম-এর মিসিং মাইগ্রেন্টস প্রজেক্ট অনুসারে, ২০২৫ সালে মধ্য ভূমধ্যসাগরে ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি অভিবাসী নিখোঁজ হয়েছেন। ২০২৬ সালে এই রুটে মৃত বা নিখোঁজ অভিবাসীর সংখ্যা কমপক্ষে ৪৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
আইওএম সতর্ক করে দিয়েছে, পাচার এবং চোরাচালানকারী চক্রগুলো মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুটে অভিবাসীদের শোষণ করে চলেছে। সমুদ্রের অযোগ্য নৌকায় বিপজ্জনক ক্রসিংয়ের সুবিধা গ্রহণ করে মানুষকে গুরুতর নির্যাতন এবং সুরক্ষা ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
ঝুঁকি কমাতে এবং জীবন বাঁচাতে নিরাপদ এবং নিয়মিত অভিবাসন পথের পাশাপাশি চোরাচালান এবং পাচারকারী চক্রগুলোকে মোকাবেলায় শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সুরক্ষা-কেন্দ্রিক প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে আইওএম।
সূত্র: রয়টার্স।

