কুমিল্লার লাকসামকে জলাতঙ্কমুক্ত করতে বেওয়ারিশ কুকুরের ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
লাকসাম পৌরসভার সহযোগিতায় ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক নার্গিস সুলতানা।
স্থানীয়রা জানান, লাকসামে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) কুকুরের কামড়ে ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৫ জন শিশু ও একজন বৃদ্ধা রয়েছেন। এ ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহতরা হলেন- পৌর শহরের পশ্চিমগাঁও বাগিচাপাড়ার সিদরাতুল মুনতাহা (৬), হামিরাবাগ এলাকার আনিকা (৭), ছনগাঁও গ্রামের ওমর ফারুক (৭), আয়ান (৬), নুসরাত (৫), কান্দিরপাড় গ্রামের রাইসা (১০), আয়ান (১৬ মাস), পশ্চিমগাঁও এলাকার মিম (১২), আরিফ (২), মমিনা খাতুন (৭০) এবং সাতবাড়ীয়া গ্রামের জান্নাতুল ফেরদৌস (৬)সহ আরও পাঁচ শিশু। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রম উদ্বোধনের পর থেকে ডগ ক্যাচাররা সতর্কতার সঙ্গে বেওয়ারিশ কুকুর ধরে ভ্যাক্সিন দিচ্ছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিলন চাকমা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কর্ণ চন্দ্র মল্লিক, লাকসাম পৌরসভার প্রধান হিসাবরক্ষক আখতার হোসেনসহ উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা জানান, বেওয়ারিশ কুকুরের কামড় এবং জলাতঙ্ক রোগ নিয়ে জনসাধারণের উদ্বেগ রয়েছে। কুকুর নিধনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকায় নিধনের পথ পরিহার করে ভ্যাক্সিনেশনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য নীলফামারি থেকে ডগ ক্যাচার আনা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত ভ্যাক্সিন মজুত রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে কুকুরকে ভ্যাক্সিন দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, কুকুরের কামড় থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

