রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবস পালন

0
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবস পালন

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পালিত হয়েছে মিয়ানমারের ৭৬তম স্বাধীনতা দিবস। রবিবার (৪ জানুয়ারি) উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প-১ (ডাব্লিউ) এলাকায় ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর) সংগঠনের উদ্যোগে দিনব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রধান সভাপতি ছৈয়দ উল্লাহর নেতৃত্বে প্রায় পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর সমাগম ঘটে। এতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি মাস্টার জাহাঙ্গীর, মাস্টার রফিক প্রকাশ কিংমং, মাস্টার শোয়াইব, মিস সাজেদা বেগমসহ বিভিন্ন ক্যাম্পের নেতাকর্মীরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নির্যাতন, সহিংসতা ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা বলেন, নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে রোহিঙ্গাদের। এই সংকটময় সময়ে আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।

স্বাধীনতা দিবসের প্রধান বক্তা ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গার সভাপতি ছৈয়দ উল্লাহ বলেন, আমরা নির্যাতিত রোহিঙ্গারা রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে নয়, বরং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য, শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কাজ করছি। আমাদের লক্ষ্য আধিপত্য বিস্তার নয়, বরং সহাবস্থান ও শান্তি প্রতিষ্ঠা।

তিনি আরও বলেন, সামনে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এমন প্রেক্ষাপটে কোনো রোহিঙ্গা যেন ক্যাম্পের বাইরে গিয়ে হোস্ট কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না করেন। পাশাপাশি সবাইকে ক্যাম্পের কাঁটাতারের ভেতরে অবস্থান করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে মানবিক বিপর্যয় আরও বাড়বে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করে তাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারের আরাকানে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

এদিকে মিয়ানমারের একটি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশটির ব্যবস্থাপনা কমিশন মানবিক বিবেচনায় সরকারি আদেশে ৯ হাজার ৭০০ জনের বেশি বন্দিকে বিশেষ ক্ষমা প্রদান করেছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ৯ হাজার ৬৫২ জন মিয়ানমারের নাগরিক এবং ১১৪ জন বিদেশি বন্দি।

রোহিঙ্গা নেতারা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক চাপের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here