রোমানিয়ায় নানা আয়োজনে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

0
রোমানিয়ায় নানা আয়োজনে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কেক কাটা, আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল জাঁকজমক ও উৎসবমুখর। এতে অংশ নেন বর্ণাঢ্য এবং কূটনৈতিক মহলের প্রতিনিধিরা। বুখারেস্ট থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, দিবসটি উপলক্ষে দুই পর্বের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রথম পর্বে সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা করেন রোমানিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহনাজ গাজী। এ সময় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

পতাকা উত্তোলন শেষে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রেরিত বাণী পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার মহান আদর্শ এবং শহীদদের আত্মত্যাগ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

দ্বিতীয় পর্বে সন্ধ্যায় বুখারেস্টের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আড়ম্বরপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন রোমানিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টেট সেক্রেটারি আনা ক্রিস্তিনা তিনকা। এছাড়া দেশটির পার্লামেন্টের সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, লেখক, শিক্ষাবিদ, ক্রীড়াবিদ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্যকে স্মরণ করে বাংলাদেশ ও রোমানিয়ার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এরপর রাষ্ট্রদূত শাহনাজ গাজী তার বক্তব্যে স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, এই দিনটি বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতীক। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রনায়ক যিনি সরকারি সফরে রোমানিয়া সফর করেছিলেন। রাষ্ট্রদূত আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নবগঠিত সরকার রোমানিয়ার সঙ্গে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক পর্যায়ে উন্নীত করবে।

প্রধান অতিথি আনা ক্রিস্তিনা তিনকা তার বক্তব্যে রোমানিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যেকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জোর দেন।তিনি বলেন, রোমানিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ইউরাপীয় দেশের মধ্যে রোমানিয়া বাংলাদেশকে প্রথম স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেয়। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার, উচ্চশিক্ষা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে সহযোগিতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, জাহাজ নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনী খাতে বাংলাদেশ ও রোমানিয়ার মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রোমানিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে স্বাক্ষরিত স্কলারশিপ চুক্তিসমূহকে তিনি স্বাগত জানান এবং এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে একটি বিশেষ কেক কাটা হয়। পরে অতিথিদের বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু খাবারের মাধ্যমে আপ্যায়ন করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here