আটলান্টিক মহাসাগরে দীর্ঘক্ষণ ধাওয়া করার পর রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলের ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ডের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের বরাত দিয়ে বুধবার রয়টার্স এই খবরটি প্রকাশ করে।
চাঞ্চল্যকর এই অভিযানে মার্কিন কোস্ট গার্ড ও সামরিক বাহিনী সরাসরি অংশ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
আদালতের নথিপত্রে ‘বেলা ১’ নামে পরিচিত এই ট্যাঙ্কারটিকে ২০২৪ সালে অবৈধভাবে তেল পরিবহনের দায়ে ছায়া নৌবহরের অন্তর্ভুক্ত করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। গত মাসে ভেনেজুয়েলা সংলগ্ন আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন কোস্ট গার্ড জাহাজটিকে আটক করার চেষ্টা করলে সেটি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এরপর মার্কিন পি-৮ নজরদারি বিমান ইংল্যান্ডের সাফোক থেকে উড্ডয়ন করে উত্তর আটলান্টিক পাড়ি দেওয়া ট্যাঙ্কারটির গতিসীমা কয়েকদিন ধরে নজদারিতে রাখে।
আটক এড়াতে ধাওয়ার একপর্যায়ে ট্যাঙ্কারটির ক্রুরা জাহাজের গায়ে রাশিয়ার পতাকা এঁকে দেয়। রাশিয়ার সরকারি রেজিস্টারে ‘মারিনেরা’ নামে নতুন করে জাহাজটিকে তালিকাভুক্ত করা হয়। রাশিয়া এই ঘটনার প্রতিবাদে গত মাসেই একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়ে মার্কিন বাহিনীকে জাহাজটির পিছু নেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিল। রাশিয়ার সুরক্ষার দাবি সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন এই জাহাজটিকে কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের নয় বরং ‘রাষ্ট্রহীন’ হিসেবে বিবেচনা করে অভিযানটি পরিচালনা করেছে।
এই অভিযান সফল করতে গত কয়েকদিন ধরেই যুক্তরাজ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছিল। জানুয়ারির শুরু থেকেই ফেয়ারফোর্ড এবং লেকেনহিথ বিমানঘাঁটিতে অন্তত ১২টি মার্কিন সি-১৭ বিমান এবং বেশ কিছু ভি-২২ অস্প্রে ও এসি-১৩০ গানশিপ মোতায়েন করা হয়।
গত শনিবার কারাকাস থেকে নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন অভিযানে আটকের পর এটি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলার ওপর বড় ধরনের চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন ভেনেজুয়েলা সরকারের ওপর প্রভাব বজায় রাখতে এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে এই ধরনের ব্লকেড বা অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: সিএনএন

