রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমা মারা গেলেন পদ্মায় বাসডুবিতে

0
রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমা মারা গেলেন পদ্মায় বাসডুবিতে

২০১৩ সালের রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় ৭২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থেকেও জীবিত উদ্ধার হওয়া নাসিমা বেগম (৪০) এবার আর প্রাণে বাঁচলেন না। গত ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনায় তার সঙ্গে আরও দুই স্বজনেরও মৃত্যু হয়েছে।

নাসিমার মৃত্যুতে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নাসিমা বেগম ওই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী। গত শুক্রবার বাদ জুম্মা পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

নিহত নাসিমার বাড়িতে গিয়ে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন। পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শুক্রবার তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে দিনাজপুরে যে কয়েকজন নারী বেঁচে ফিরেছিলেন, তাদের মধ্যে তিনটি আলোচিত নাম ছিল—ঘোড়াঘাটের রেশমা বেগম, পার্বতীপুরের নাসিমা বেগম এবং ফুলবাড়ীর রেবেকা সুলতানা। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার তিন দিন পর, ২৬ এপ্রিল ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছিলেন তারা। তবে এবার পদ্মার বাস দুর্ঘটনায় আর ভাগ্য সহায় হলো না নাসিমা বেগমের। পদ্মা থেকে উদ্ধার হয় তার নিথর দেহ।

জানা যায়, কর্মের সন্ধানে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান তিনি। সেখানে প্রায় এক মাস চেষ্টার পরও কোনো কাজ পাননি। পরে পার্বতীপুরে বাড়ি ফিরতে চাইলে ভাগনির অনুরোধে ঈদ উপলক্ষে তিনি আজমিরার শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে যান।

ঈদ শেষে ২৫ মার্চ বুধবার বিকালে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ এবং চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান বাসযোগে ঢাকায় ফিরছিলেন। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এতে তারা সবাই পানিতে ডুবে যান।

কিছু সময় পরে আব্দুল আজিজ জীবিত উদ্ধার হলেও রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ বাকি তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিকে স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহতদের মরদেহ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলে কুষ্টিয়া এলাকায় লাশবাহী গাড়িটি আবারও দুর্ঘটনার শিকার হয় বলে জানান নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু। পরে শুক্রবার জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন নাসিমা বেগম। ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে তিন দিন আটকে থাকার পর ২৬ এপ্রিল অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হন তিনি। এরপর দীর্ঘদিন গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে আবারও কাজের সন্ধানে ঢাকায় গিয়েছিলেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here