রাজশাহী নগরীতে অবৈধভাবে পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ভরাট কাজ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। সোমবার বিকেলে নগরীর শাহাজিপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে গাইপুকুর নামে পরিচিত একটি পুরাতন পুকুরের ভরাট কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এই পুকুরটি সম্প্রতি মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছিল, যা পরিবেশ ও জলাধার সংরক্ষণ আইনের পরিপন্থী।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাছমিনা খাতুন জানান, হারুপুর মৌজার একটি দাগে প্রায় ৪৫ শতাংশ জমিজুড়ে দীর্ঘদিনের একটি পুকুর আছে। জমির মালিক শিল্পপতি মুকুলের ছোট ভাই মো. বাবু কোনো অনুমোদন ছাড়াই পুকুরটি ভরাট করছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কাজ বন্ধ করা হয় এবং মালিককে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অফিসে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এলাকাবাসীর দাবি এটি একটি পুরাতন জলাধার, যা স্থানীয় পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদিও মালিকের দাবি, আরএস ও খতিয়ানে জমিটি আমবাগান হিসেবে উল্লেখ আছে। তবে জনমত ও প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে এলাকাটিতে এটি একমাত্র পুকুর হওয়ায় ভরাটের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা পুকুরটি রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।
কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরহাদ আলি জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় পরিবেশবাদীরা বলছেন, নগরীতে জলাধার রক্ষা না করলে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা, ভূগর্ভস্থ পানির সংকট এবং পরিবেশ বিপর্যয় বাড়বে। তাই অবৈধ পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান বজায় রাখা জরুরি।

