সম্প্রীতি আফগানিস্তানের হয়ে ক্যারিয়ার দীর্ঘ করতে বছরে একটি টেস্ট ক্রিকেট খেলার পরিকল্পনা কথা জানিয়েছিলেন রশিদ খান। এমন ভাবনা থেকে চলতি বছরে ভারতের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলার কথাও জানান এই লেগ স্পিনার।
মূলত চোট এড়িয়ে আগামী বিশ্বকাপে নিজেকে ফিট রাখতে নিজের ভবিষ্যতে নিয়ে কথা বলেন ২৭ বয়সী এই ক্রিকেটার। রশিদ খানের এমন পরিকল্পনায় তাকে সমর্থন দিয়েছেন আফগানিস্তানের প্রধান কোচ রিচার্ড পাইবাস। তিনি বলেছেন, লাল বলের ক্রিকেটে খেলতে বাধ্য করে তার ক্যারিয়ারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা ঠিক হবে না।
লাল বলের ক্রিকেটে রশিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পাইবাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি ক্রিকবাজকে বলেন, সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। হ্যাঁ, আমি তাই মনে করি। সাদা বলের সূচির আগে চোটের ঝুঁকি থাকলে ভারতের বিপক্ষে তাকে বিশ্রাম দেওয়াই ভালো।
রিচার্ড পাইবাস বলেন, রশিদের স্বাস্থ্যের একটা ব্যাপার আছে, ক্রিকেটের বাইরে তার দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। আপনি চাইবেন না খেলোয়াড় জীবনে পাওয়া কোন চোট ৪০, ৫০, ৬০ বা তার বেশি বয়সে কেউ কষ্ট অনুভব করুক।
তিনি উল্লেখ করেন, দেখুন, পুরো ব্যাপারটাই তার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল, তাই না? আমি এখনও নির্বাচকদের সঙ্গে বিভিন্ন ফরম্যাটের খেলোয়াড়দের নিয়ে আলোচনা করিনি। কিন্তু তার পিঠের সমস্যার ইতিহাস এবং সে যেখান থেকে এসেছে, তাতে এটা খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনার বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সুতরাং এমন কাজের চাপের জন্য কোনো খেলোয়াড়ের স্বাস্থ্য বা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার কোনো ইচ্ছাই থাকে না, যা সে বহন করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, তাহলে যদি সে একটি টেস্টের জন্য উপলব্ধ থাকে, তবে সেটা কোন টেস্ট হবে? তাই নির্বাচকদের সঙ্গে এটি একটি ভালো আলোচনা হবে। পাইবাস বর্তমানে আফগানিস্তানে রয়েছেন। তিনি আফগানিস্তান ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ শুরু করেছেন।
জাতীয় দলের আসন্ন দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ শিবিরের তত্ত্বাবধান করতে পাইবাস সম্প্রতি কাবুলে পৌঁছেছেন। এই সফরে তিনি নির্বাচক কমিটি, আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট বিভাগ এবং হাই-পারফরম্যান্স সেন্টারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
আলোচনায় তার সঙ্গে যোগ দেন জাতীয় দলের অধিনায়ক হাশমতুল্লাহ শাহিদী ও ইব্রাহিম জাদরান। এই আলোচনার মূল বিষয় ছিল আসন্ন এফটিপি ফিক্সচার, কৌশল এবং বিশেষ করে আসন্ন দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ শিবিরের সূচনা ও ব্যবস্থাপনা।
এসিবি-র পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ শিবিরটি এক মাসব্যাপী হবে, যেখানে প্রায় ৪০ জন আফগান খেলোয়াড় অংশ নেবেন। এটি হাই-পারফরম্যান্স সেন্টারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং নতুন প্রধান কোচের উপস্থিতিতে পরিচালিত হবে। যা রবিবার (১২ এপ্রিল) শুরু হয়ে মে মাস পর্যন্ত চলবে।

