রমজানে বৈশাখী টিভিতে প্রতিদিনের ধারাবাহিক ‘রহমত’

0
রমজানে বৈশাখী টিভিতে প্রতিদিনের ধারাবাহিক ‘রহমত’

পবিত্র রমজান উপলক্ষে বরাবরের মতো এ বছরও বৈশাখী টিভি-তে প্রচারিত হচ্ছে প্রতিদিনের ধারাবাহিক নাটক ‘রহমত’। পহেলা রমজান থেকে প্রতিদিন বিকেল ৬টা ২০ মিনিটে নাটকটির সম্প্রচার শুরু হয়েছে।

নাটকটি রচনা করেছেন আল আমিন স্বপন এবং পরিচালনা করেছেন মামুন আব্দুল্লাহ। ব্যবস্থাপনায় আছেন লিটু সোলায়মান। নাটকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন বৈশাখী টিভির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক টিপু আলম মিলন। বৈশাখী টিভির অনুষ্ঠান বিভাগ প্রযোজিত এই ধারাবাহিকের সংগীত পরিচালনায় আছেন নসরুল হক রনি ও রিফাত বিন কাউসার। চিত্রগ্রহণে কবিরুল ইসলাম ইমরান ও আবু তাহের এবং সম্পাদনায় আছেন দীপঙ্কর চৌধুরী।

নাটকে অভিনয় করেছেন আব্দুল্লাহ রানা, মৌ শিখা, এম কে এইচ পামির, শেখ স্বপ্না, আশরাফুল আশীষ, মুসকান সিকদার, আলিফ চৌধুরী, ডিম্পল আহমেদ, নিপুন আহমেদ, অধরা নিহারিকা, সিদ্দিক মাষ্টার, মনিরুজ্জামান মনি, হাসিমুন, শিশুশিল্পী রেহনুমা আরিবা, মাসুদ হারুন, আলমাস, ইমরান হোসেন হাসো, লেলিন মৃধা, সাভা তাবাসসুম, শৈশব আমিরী, শাহজাহান শোভন ও হাবিবুর রহমানসহ আরও অনেকে।

পরিচালক মামুন আব্দুল্লাহ জানান, নাটকটির মূল উদ্দেশ্য হলো পবিত্র রমজানে কোরআন-হাদিসের আলোকে মানুষকে সচেতন করা, অন্যায় থেকে দূরে রাখা এবং ভালো কাজের প্রতি উৎসাহিত করা।

নাটকের গল্প
নাটকের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে মফস্বল শহরের সুন্দরগঞ্জ গ্রামের এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আলী মাষ্টারকে কেন্দ্র করে। তিনি দীর্ঘদিন একটি হাইস্কুলে শিক্ষকতা করার পর তিন বছর আগে অবসর নিয়েছেন। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে তার সংসার। বড় মেয়ে তিতলি স্বামীসহ বাবার বাড়িতেই থাকে। একমাত্র ছেলে মিঠু এবং ছোট মেয়ে তিশাও একই বাড়িতে থাকে।

রমজান মাসের এক সেহরির সময় আলী মাষ্টার পরিবারের সামনে দুটি ঘোষণা দেন—
প্রথমত, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িতে কোনো রান্না করা যাবে না।
দ্বিতীয়ত, পুরো রমজান মাসে তিনি প্রতিদিন সেহরি ও ইফতারের সময় একজন করে গরিব মানুষকে মেহমান হিসেবে বাড়িতে নিয়ে আসবেন।

একদিন সকালে বাড়িতে রান্না না থাকায় মিঠু বাজারের এক দোকানে বসে চা ও সিগারেট খায়। দোকানে পর্দা টাঙানো থাকায় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। সেখানে এসে যোগ দেয় তার দুলাভাই মতিন। তারা দুজনেই লুকিয়ে চা-নাস্তা করলেও সারাদিন ক্ষুধায় কষ্ট পায়। পরে আলী মাষ্টার স্কুলের মসজিদের মাওলানা সাহেবকে বাড়িতে ডেকে এনে ছেলে ও জামাইকে রোজার গুরুত্ব বোঝান। এমনকি ইফতারের সময় আনা এক ভিক্ষুককে দেখিয়ে বলেন, “এই লোক ভিক্ষা করে যদি রোজা রাখতে পারে, তোমরা কেন পারবে না?” এতে লজ্জা পেয়ে তারা পরদিন থেকে রোজা রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়।

অন্যদিকে আলী মাষ্টার লক্ষ্য করেন, তার ছোট মেয়ে তিশা রোজা রাখলেও সময় কাটায় টিকটক করে। বিষয়টি নিয়ে তিনি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে খোঁজখবর নিয়ে মেয়েকে বোঝান এবং তাকে এসব থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি করান।

নাটকে আলী মাষ্টারের বন্ধু আজমলের চরিত্রও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সুদের ব্যবসা করেন এবং রোজা রেখেও সুদের টাকা আদায় করেন। তার ছেলে আবুলও একই পথে চলে এবং গ্রামের বিভিন্ন ঝামেলায় জড়িয়ে থাকে। আজমলের মেয়ে তানিয়া ধর্মীয় বিধিনিষেধ মানে না এবং রোজাও রাখে না।

এদিকে আলী মাষ্টারের মেয়ে তিশার সঙ্গে আবুলের প্রেমের সম্পর্কও গল্পে নতুন দ্বন্দ্ব তৈরি করে। এইসব পারিবারিক ও সামাজিক ঘটনা, দ্বন্দ্ব এবং নানা চরিত্রের মাধ্যমে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার বার্তা নিয়ে এগিয়ে চলে ধারাবাহিক নাটক ‘রহমত’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here