রমজানে ঘুমের সমস্যা? মেনে চলুন এই সহজ টিপসগুলো

0
রমজানে ঘুমের সমস্যা? মেনে চলুন এই সহজ টিপসগুলো

রমজান এলেই বদলে যায় দৈনন্দিন রুটিন। সাহরি, তারাবিহ ও রাতের ইবাদতের কারণে ঘুমের সময়সূচিতে আসে বড় পরিবর্তন। ফলে অনেকেই অনিদ্রা, সারাদিন ঝিমুনি বা অতিরিক্ত ক্লান্তিতে ভোগেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট কারণেই রমজানে ঘুমের সমস্যা বাড়ে।

কেন ঘুমের সমস্যা হয়

সময়সূচির হঠাৎ পরিবর্তন

সারা বছর নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমালেও রমজানে সাহরির জন্য গভীর রাতে উঠতে হয়। আবার তারাবিহ শেষে ঘুমাতে যেতে দেরি হয় অনেকের। এতে শরীরের জৈবঘড়ি বা বডি ক্লক বিঘ্নিত হয়, ঘুমের ছন্দ নষ্ট হয়।

ইফতারের ভারী খাবার

ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, ঝাল ও তেলযুক্ত খাবার হজমে সময় নেয়। ফলে বুকজ্বালা, গ্যাস্ট্রিক ও অস্বস্তি তৈরি হয়, যা রাতে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।

ক্যাফেইন ও মিষ্টি পানীয়

ইফতার বা রাতের খাবারের পর চা, কফি কিংবা চিনিযুক্ত পানীয় পান করলে স্নায়ু উত্তেজিত থাকে। এতে ঘুম আসতে দেরি হয় এবং ঘুম গভীর হয় না।

রাত জাগা ও অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম

তারাবিহ শেষে মোবাইল ফোন বা টিভির সামনে দীর্ঘ সময় কাটালে ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের নিঃসরণ কমে যায়। এতে ঘুমের মান কমে যায়।

দিনে অতিরিক্ত ঘুম

রাতে কম ঘুমের ঘাটতি পূরণে দিনে দীর্ঘ সময় ঘুমালে রাতে আবার ঘুম আসে না। এতে ঘুমের চক্র আরও এলোমেলো হয়ে পড়ে।

কীভাবে সমাধান

ঘুমের রুটিন ঠিক করুন

রমজানের শুরু থেকেই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে রাতে কিছুটা আগে ঘুমাতে যান, যাতে সাহরির আগে পর্যাপ্ত বিশ্রাম হয়।

ইফতার ও রাতের খাবার হালকা রাখুন

ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মসলা এড়িয়ে ফল, সবজি, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ করুন।

ক্যাফেইন সীমিত করুন

ইফতারের পর চা-কফি কম পান করুন। চাইলে হারবাল চা বা গরম দুধ বেছে নিতে পারেন।

স্ক্রিন টাইম কমান

ঘুমানোর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে মোবাইল ও টিভি ব্যবহার বন্ধ রাখুন।

দিনের ঘুম নিয়ন্ত্রণে রাখুন

প্রয়োজনে দিনে ২০–৩০ মিনিটের বেশি না ঘুমানোই ভালো।

ইবাদত ও বিশ্রামের ভারসাম্য রাখুন

ইবাদতের পাশাপাশি শরীরের বিশ্রামও জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে পারলে রমজান আরও শান্ত, সুস্থ ও কর্মক্ষমভাবে কাটানো সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here